‘বিজিবি’ নয় আবারও ফিরবে ‘বিডিআর’, পিলখানা ট্র্যাজেডি হবে ‘জাতীয় শোক দিবস’ঃ তারেক রহমান

0
‘বিজিবি’ নয় আবারও ফিরবে ‘বিডিআর’, পিলখানা ট্র্যাজেডি হবে ‘জাতীয় শোক দিবস’ঃ তারেক রহমান

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নাম পরিবর্তন করে পুনরায় ‘বাংলাদেশ রাইফেলস’ (বিডিআর) করার ঘোষণা দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে স্মরণীয় করে রাখতে দিনটিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ বা ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে পালনের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

শনিবার রাতে রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও পিলখানায় শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক আবেগঘন মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “২০০৯ সালে পিলখানায় পৈশাচিক সেনা হত্যাযজ্ঞের পর পতিত ফ্যাসিস্ট অপশক্তি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিডিআরের নাম ও ইউনিফর্ম পরিবর্তন করে ফেলেছিল। আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে এই গৌরবময় বাহিনীর নাম ‘বিডিআর’ পুনর্বহাল করব।” তিনি আরও জানান, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালনের জন্য সেনাবাহিনীর সঙ্গে পরামর্শ করে একটি নির্দিষ্ট দিবস ঘোষণা করা হবে।

সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের কল্যাণে তারেক রহমান বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করেন: অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যদের দীর্ঘদিনের এই দাবি এরই মধ্যে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি শক্তিশালী ‘জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। সময়ের প্রয়োজনে সেনা আইনের প্রয়োজনীয় পরিমার্জন ও সংস্কার করার আশ্বাস দেন তিনি।

সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “সেনাবাহিনীর গৌরব তাদের নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কোনোভাবেই সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না। রাজনীতির চাদর যেন পেশাদারিত্বকে ঢেকে না ফেলে, সেদিকে প্রতিটি সদস্যকে সজাগ থাকতে হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “সেনাবাহিনী রাজনীতি সচেতন থাকবে ঠিকই, কিন্তু রাজনীতিতে বিলীন হওয়া তাদের উচিত হবে না।”

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “সেনানিবাসেই আমার বেড়ে ওঠা। ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর দেখেছি সেনাবাহিনীর প্রতি আমার মা বেগম খালেদা জিয়ার গভীর সম্মান ও নির্ভরতা। সশস্ত্র বাহিনী আমার কাছে সবসময় একটি বৃহত্তর পরিবারের মতো।”

অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। তারেক রহমান অনুষ্ঠানে আগত প্রতিটি সাবেক কর্মকর্তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কুশল বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, সাবেক তিন বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর।