কলাপাড়া প্রতিনিধি: এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তিনি এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করবেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন-এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন।
এবিএম মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সামাজিক কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকা রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে সমর্থকদের মধ্যে সুনাম সৃষ্টি করেছে। ২০২৬ সালের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী–৪ আসনে এবিএম মোশাররফ হোসেন ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ১,২৪,০১৩ ভোট পেয়েছেন এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোস্তাফিজুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন) ৭০,১২৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।
এই ফলাফল অনুযায়ী, মোশাররফ হোসেন পেয়েছেন মোট প্রায় ৬৩% ভোট (অনুমানস্বরূপ), যেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন প্রায় ৩৭% ভোট — যা তাঁর জয়কে নিশ্চিত ও বিরাজমান জনসমর্থনের প্রতিফলন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দেশের নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণ ও গণনায় নজরদারি করেছে, এবং ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। সরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে পটুয়াখালী–৪ আসনে মোশাররফ হোসেনের জয় ঘোষণায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ফলাফল প্রকাশ করেন।
পটুয়াখালী–৪ আসনে এই বিপুল বিজয়ে এলাকায় আনন্দের পরিবেশ দেখা গেছে। কলাপাড়ার উপকূলীয় এলাকার দীর্ঘ সকল অবকাঠামোগত সমস্যা, বিশেষ করে ভাঙন, পানি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে তিনি কাজ করবেন বলে আশা করি।” এক তরুণ শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, “শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন দেখতে চাই। আমরা চাই এমপি মহোদয় আমাদের কথা সংসদে শক্তভাবে তুলে ধরবেন।” শিল্প ও কর্মসংস্থান প্রত্যাশীরা উন্নত প্রযুক্তি শিক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক পরিবেশ শক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। এবিএম মোশাররফ হোসেনও তাঁর ভাষণে এলাকাবাসীর আস্থা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, “আমি দায়িত্ব নিয়ে মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে কাজ করবো।” সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এই নির্বাচনে দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দলগুলো অংশগ্রহণ করেছে এবং বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে, যার মধ্যে বিএনপি জোটের শক্ত অবস্থান গড়ে উঠেছে। জাতীয়ভাবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ভোটাররা ব্যাপক অংশগ্রহণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দিয়েছেন।

