শেরপুর-৩ আসনের ভোট বর্জন করলেন জামায়াত প্রার্থী

0
শেরপুর-৩ আসনের ভোট বর্জন করলেন জামায়াত প্রার্থী

শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিনেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম, জাল ভোট প্রদান এবং তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক কেন্দ্রে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে জাল ভোটদাতাদের হাতেনাতে আটক করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে সোপর্দ করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, ঝগড়াচর কেন্দ্রে তার উপস্থিতিতে একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে দেয়া হলেও পরবর্তীতে আবারও জাল ভোটের ঘটনা ঘটে।

এছাড়া পোড়াগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের এক এজেন্ট মোসাম্মদ রুজিনা বেগম নিজ হাতে ব্যালটে সিল মারছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে জানানো হলেও তিনি নীরব ছিলেন বলে দাবি করেন। আরও অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কাকিলাকড়া ইউনিয়নের ঘরখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের গালিগালাজ করে বের করে দেয়া হয়েছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংসা ইউনিয়নের আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির নেতাকর্মীরা জাল ভোট দিতে থাকলে বাধা দেয়ায় জামায়াতের এজেন্টদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাজুল ইসলাম নামে এক এজেন্ট গুরুতর আহত হন, গান্ধীগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রকাশ্যে সিল মারার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, রানীশিমুল ইউনিয়নের টেঙ্গরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও জাল ভোটের প্রতিবাদ করায় তার দলের এজেন্টদের ওপর হামলা হয়েছে। সালমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অপ্রাপ্তবয়স্কদের দিয়ে ভোট দেয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এসব ঘটনায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া শ্রীবরদী উপজেলার তাতিহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নেতৃত্বে জাল ভোটের চেষ্টা করা হলে প্রতিবাদকারী জামায়াত এজেন্টদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।