বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কক্সবাজার সফরের নেপথ্য কারণ নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর বিক্রম। তাঁর দাবি, ওবায়দুল কাদের রাজনৈতিক বা দাপ্তরিক কাজে নয়, বরং সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির কাছ থেকে ‘বস্তাভর্তি ইয়াবা’ আনতেই নিয়মিত কক্সবাজার যেতেন।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে খেলাফত মজলিস আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদেরের বিগত দিনের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অলি আহমদ বলেন, “ওবায়দুল কাদের প্রতি মাসে এক-দুইবার করে কক্সবাজার যেতেন বদির কাছ থেকে বস্তা ভরে ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো আনার জন্য। আপনারা তখন মনে করেছেন মন্ত্রী কতই না পরিশ্রমী! কিন্তু বারবার কক্সবাজার কেন? রাজশাহী কেন নয়? দিনাজপুর কেন নয়? উদ্দেশ্য ছিল একটাই—মাদক চোরাচালান।”
সাবেক এই সামরিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, বর্তমানে মাদক কারবার এখন খোদ জনপ্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। তিনি বলেন, রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার জন্য জনপ্রতিনিধিরা ইয়াবা কারবারকে সবচেয়ে সহজ পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। মাদক কারবারিদের ঠিকানা পুলিশের কাছে হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অলি আহমদের মতে, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মাদকের বিস্তার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বর্তমানে তা লাগামহীন।
দেশের আইনসভা বা সংসদ সদস্যদের মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এলডিপি সভাপতি বলেন, বর্তমান সংসদের তিন ভাগের এক ভাগই ব্যবসায়ী। বাকিদের একটি বড় অংশ ‘অশিক্ষিত’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “অনেকে সংসদ সদস্য হয়েও ‘পার্লামেন্ট’ বানান উচ্চারণ করতে পারেন না। অশিক্ষিত না লিখে ভদ্র ভাষায় তারা ফরমে লেখেন ‘স্বশিক্ষিত’। আসলে স্বশিক্ষিত মানেই অশিক্ষিত।”
কর্নেল অলির এই সরাসরি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ের আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ওবায়দুল কাদের এবং আবদুর রহমান বদিকে নিয়ে দেওয়া এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক পাল্টা জবাব পাওয়া যায়নি।
মাদকের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতার এমন অভিযোগ আগামী দিনের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

