পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে : সরকারকে কর্নেল অলির কড়া হুঁশিয়ারি

0
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে : সরকারকে কর্নেল অলির কড়া হুঁশিয়ারি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পরিস্থিতি নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। তিনি সাফ জানিয়েছেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়। দ্রব্যমূল্য আর অশান্তি এভাবে বাড়তে থাকলে বিরোধী দলগুলো ‘আঙুল চুষবে না’ বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

রোববার (১০ মে) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে ‘গণভোটের রায় জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কর্নেল অলি বর্তমান সরকারের শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, দেশে এখন বিনিয়োগের কোনো পরিবেশ নেই। শুধু যে নতুন বিনিয়োগ আসছে না তা নয়, বরং চলমান বড় বড় বিনিয়োগগুলোও দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সমস্যা তো দিন দিন বাড়ছে। সরকার কীভাবে এসব সামাল দেবে?”

আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “পত্রিকার পাতা খুললেই শুধু খুনের খবর। একজন চারজনকে গলা কেটে হত্যা করছে—এসব কেন হচ্ছে? মানুষের মনে শান্তি নেই, আর এর জন্য বর্তমান সরকারই সরাসরি দায়ী।”

বক্তব্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পরিস্থিতি টেনে আনেন এলডিপি চেয়ারম্যান। তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে। তার দাবি, বাংলাদেশে ব্যবহৃত কৌশলের পরামর্শ মেনেই শুভেন্দু অধিকারীকে জেতানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের পর সেখানে সংখ্যালঘুদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চলছে। ৩৬০টিরও বেশি দোকান ও মসজিদ ভাঙচুর করা হয়েছে।”

ভারত সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আমরা ভারত সরকারকে বলব, আপনারা আপনাদের ‘গরু’ সামলান। নাগরিকদের নিরাপত্তা দিন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিন।” তিনি শুভেন্দু অধিকারীর কর্মকাণ্ডকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে তার বিচার দাবি করেন।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কর্নেল অলি বলেন, “আপনি চাটুকারদের দ্বারা বেষ্টিত হয়ে আছেন। এই বেষ্টনী ভেঙে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটান।” তিনি মনে করিয়ে দেন যে, আইন কোনো অপরিবর্তনীয় ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বরং মানুষের উপকারের জন্য। তাই ৭০ শতাংশ মানুষের দাবি মেনে নিয়ে একটি সুষ্ঠু ধারায় ফেরার আহ্বান জানান তিনি। একইসাথে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার মর্যাদা রক্ষার তাগিদ দেন।

সেমিনারে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে এই বীর বিক্রম বলেন, “সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা কঠিন, কিন্তু আপনারা তা করে দেখিয়েছেন। দেশের প্রয়োজনে যদি আবার রক্ত দিতে হয়, তবে তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।” তিনি আরও সতর্ক করেন যে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ বন্ধ না করলে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ না করলে অচিরেই দেশে গণবিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। এছাড়া বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী, ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেনসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা সকলেই একমত পোষণ করেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।