বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড চলমান রেখে এবং নতুন করে কাঁটাতার দিয়ে বন্ধুত্বের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপি সমর্থিত সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স ‘শাপলা গণহত্যা; বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
বক্তব্যের শুরুতেই নাহিদ ইসলাম সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের সীমান্তে আবারও হত্যাকাণ্ড ঘটছে। একদিকে রক্ত ঝরছে, অন্যদিকে নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হচ্ছে। আমার দেশের মানুষকে হত্যা করে কেউ যদি বন্ধুত্বের কথা বলে, তবে সেই বন্ধুত্ব অর্থহীন। কাঁটাতার দিয়ে কোনোদিন প্রকৃত বন্ধুত্ব হয় না।”
তিনি সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সীমান্ত রক্ষার প্রাথমিক দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকার যদি এই সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তবে দেশের সাধারণ জনগণ নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবে।
নদী ও পানির অধিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এনসিপি প্রধান বলেন, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করা এখন সময়ের দাবি। এটি কেবল রাজনৈতিক ইস্যু নয়, বরং দেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন। তিনি সরকারকে এই বিষয়ে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ হিসেবে নাহিদ ইসলাম ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার সাথে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের যোগসূত্র তুলে ধরেন। তার মতে শাপলা চত্বরের ঘটনার সঠিক বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়ায় দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি জেঁকে বসেছিল। ২০১৩ সালের ঘটনার বিচার না হওয়ার কারণেই ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার ওপর আরেকটি বড় ধরনের গণহত্যা চালানোর সাহস পেয়েছে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী। শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ‘হেফাজতের তাণ্ডব’ বা ‘জঙ্গি তৎপরতা’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার যে প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছিল, তা মূলত প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার অপচেষ্টা ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচনা সভায় নাহিদ ইসলাম দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতের প্রতিটি অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করা না গেলে দেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে। অনুষ্ঠানে এনসিপি ও ওলামা অ্যালায়েন্সের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

