হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকায় রংপুরের বদরগঞ্জে তিন ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার

0
হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকায় রংপুরের বদরগঞ্জে তিন ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার

জয়নাল আবেদীন: রংপুরের বদরগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় রিকশাচালক আরিফুল ইসলাম নিহতের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির তাদের দলীয় পদ থেকে লিখিত বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়।বহিষ্কৃতরা হলেন- রংপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ শাহ, বদরগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব গোপাল ব্যানার্জি এবং বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সম্রাট।পত্রে বলা হয়েছে, ‎সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধন্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সাথে কোনোরূপ সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।এর আগে, গত ১১ মে রংপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরীফ নেওয়াজ জোহা ও সাধারণ সম্পাদক আফতাবুজ্জামান সুজন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গোপাল ব্যানার্জি ও মুজাহিদুল ইসলাম সম্রাটকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়।

বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে রিকশাচালক আরিফুল ইসলাম হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা রয়েছে। এদের মধ্যে আসামি গোপাল ব্যানার্জিকে গত ১২ মে নওগাঁ থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।পুলিশ জানিয়েছে গোপাল ব্যানার্জি ৩টি হত্যা মামলার ও মুজাহিদুল ইসলাম সম্রাট ৪টি হত্যা মামলার আসামি। মূলহোতা ফিরোজ শাহ ওরফে মার্ডার ফিরোজের বিরুদ্ধে ৩টি হত্যাসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে।পুলিশ আরো জানায় গত ৫ মে রংপুর আদালতে একটি মামলায় ‘মার্ডার ফিরোজ’ গ্যাং ও পাঠানপাড়া এলাকার মমিনুল গ্রুপের সদস্যরা হাজিরা দিতে যান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেখানে ফিরোজ শাহ ওরফে ‘মার্ডার ফিরোজ’ এর নেতৃত্বে মমিনুল গ্রুপের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে মমিনুলসহ কয়েকজন আহত হন।আদালত থেকে ফেরার পর ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বদরগঞ্জে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিশোধ নিতে মমিনুলের অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফিরোজ গ্যাংকে খুঁজতে থাকে।

একই সময় ফিরোজ গ্যাংয়ের লোকেরাও মমিনুলের পক্ষকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে আম্বিয়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা আরিফুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয় তার বাড়ি কোথায়। তিনি পাঠানপাড়া গ্রামের কথা বলতেই তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহত আরিফুল ইসলাম (২৮) বদরগঞ্জ পৌর শহরের নয় নম্বর ওয়ার্ডের পাঠানপাড়া এলাকার রেজাউল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় রিকশাচালক ছিলেন। প্রয়োজনের তাগিদে কখনও কখনও রাজমিস্ত্রির কাজও করতেন।

ঘটনার দিন রাজমিস্ত্রির কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন।এরপর নিহতের বাবা রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার জানিয়েছেন, আরিফুল ইসলাম হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।