‘তাউরাসগিরি সেকেন্ডে গোল্লায় দেব’; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াত নেতার ভিডিও ভাইরাল
পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ “উল্টা-পাল্টা কথা বইলা মটকা গরম করবেন না। মটকা গরম করলে সামলাইতে পারবেন না। শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস, সেটা শেখ হাসিনাকে জিজ্ঞেস করে জাইনা নিয়েন!”— রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের এমন একটি চরম হুঁশিয়ারি ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (৩০ মে) বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে দেওয়া তার এই ঝোড়ো বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপটি এখন ফেসবুক ও ইন্টারনেটে ভাইরাল।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে জামায়াতের এই প্রভাবশালী সংসদ সদস্যকে অত্যন্ত চড়া সুরে বলতে শোনা যায়, “মটকা গরম কইরেন না। শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস, সেটা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় মাস্তান ও সন্ত্রাসীকে জিজ্ঞেস করেন। গত ৯ তারিখ বাউফল থানার সামনে দাঁড়িয়ে আমি দেখিয়েছি আমি কী জিনিস।”
নিজের রাজনৈতিক শক্তিমত্তা ও অতীত সংগ্রামের জানান দিয়ে তিনি স্পষ্ট বলেন, বাউফলের মানুষের কাছে নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার কোনো প্রয়োজন তার নেই।
ক্ষমতা প্রদর্শনের রাজনীতিকে তীব্র কটাক্ষ করে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন “পাওয়ার তো দেখায় ডাকাত, পাওয়ার দেখায় চোর, ছিনতাইকারী আর পকেটমার। শফিকুল ইসলাম মাসুদ পকেটমার এমপি না, ডাকাত থেইকা এমপি হয় নাই। মাসুদ এমপি হয়েছে বাউফলের সাধারণ মানুষকে ক্ষমতাবান করার জন্য।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে বাউফল অঞ্চলটি ডাকাতি ও চাঁদাবাজির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অন্ধকার যুগে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ কাউকেই দেওয়া হবে না।
বক্তব্যের শেষভাগে প্রতিপক্ষকে রাজপথে চূর্ণ-বিচূর্ণ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, “যতই তাউরাসগিরি (মাস্তানি) যারা যারা করেন, সেকেন্ডের মধ্যে সব গোলাইয়া (ধুলোয় মিশিয়ে) ফালায় দেব। আমাদের মটকা যেন কেউ গরম না করান। আমরা শক্তের ভক্ত, নরমের যম!”
উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের এই ঈদ পুনর্মিলনী সভায় জামায়াতে ইসলামী ও তার বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের হলেও এমপি মাসুদের এমন মারমুখী ও ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ ছোঁড়া বক্তব্য মুহূর্তের মধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। সচেতন মহলে এটি নিয়ে যেমন নানা সমালোচনা হচ্ছে, তেমনি তার অনুসারীদের মাঝে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উদ্দীপনা।

