বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিচার দাবি এনসিপির: সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যায় আখতার হোসেন

0
বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিচার দাবি এনসিপির: সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যায় আখতার হোসেন

ইবি প্রতিনিধিঃ সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করার জোর দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না—সংবিধানের এই ধারণাটি আইনিভাবে সঠিক নয়। পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পরপরই যেকোনো ব্যক্তি আইন ও আদালতের আওতায় চলে আসেন।

রোববার (২৬ জুলাই) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ আয়োজিত ‘জুলাই স্মরণে আলোচনা সভা’ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

সংবিধানের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকাকালে পদমর্যাদাগত কাজের জন্য কাউকে সরাসরি আদালতে তোলা যায় না এবং এ নিয়ে অনেকের মধ্যে একটি ‘ভুল ধারণা’ বা ‘ভুল কনসেপ্ট’ রয়েছে। তবে দায়িত্বে থাকাকালীন সময়েও দেওয়ানি (সিভিল) মামলা করার সুযোগ থাকে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দায়িত্ব বা পদ থেকে সরে যাওয়ার পর একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের ফৌজদারি ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে আর কোনো সাংবিধানিক বাধা থাকে না।

আখতার হোসেনের মতে, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে মো. সাহাবুদ্দিন স্বীয় শপথ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি শেখ হাসিনা সরকারের জুলাই গণহত্যার সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে তিনি পর পর দুটি পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে জনগণের সঙ্গে চরম মিথ্যাচার করেছেন। একবার পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা বললেও পরবর্তীতে তা পাননি বলে দাবি করেন, যা তার শপথ ভঙ্গের প্রমাণ।

আখতার হোসেন উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরপরই বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতারা একটি সর্বদলীয় ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের স্পষ্ট রূপরেখা বা প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িত না হওয়ায় দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস অন্যভাবে লেখা সম্ভব হয়নি। এরপরও এনসিপি থেমে থাকেনি; অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো সময়জুড়েই তারা সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবিতে রাজপথে সোচ্চার ছিল।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ইশতেহার উদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় এনসিপি ও ছাত্রশক্তির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ ও সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু। কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান এবং দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে নেতারা জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে দেশের রাজনীতি ও বিচার ব্যবস্থাকে দুর্নীতি ও স্বৈরাচারমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।