বিসিবিকে ‘শোকজ’ ও স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্তি: উত্তাল ক্রিকেট অঙ্গন, বিশ্বকাপ বয়কটের ছক পাকিস্তানের!

0
বিসিবিকে ‘শোকজ’ ও স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্তি: উত্তাল ক্রিকেট অঙ্গন, বিশ্বকাপ বয়কটের ছক পাকিস্তানের!

ক্রীড়া ডেস্কঃ আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে শুরু হতে যাওয়া দশম আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন সংকট। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত সফরে বাংলাদেশের আপত্তির জেরে বিসিবিকে টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে আইসিসি সেখানে স্কটল্যান্ডকে স্থলাভিষিক্ত করেছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবার সরব হয়েছে পাকিস্তান। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন নাকি পুরো টুর্নামেন্ট থেকে প্রত্যাহার—সবগুলো ‘অপশন’ নিয়ে আজ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নাকভির বৈঠক: সব বিকল্প খোলা

আজ সোমবার ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই জরুরি বৈঠক শেষে মহসিন নাকভি তার ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে জানান, আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি লেখেন, “প্রধানমন্ত্রীকে আইসিসির অন্যায্য সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা প্রতিটি বিকল্প খোলা রেখেই এর সমাধান করি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবার বা সোমবার ঘোষণা করা হবে।”

আইসিসির ‘দ্বিচারিতা’ ও পিসিবির ক্ষোভ পিসিবি সূত্রের খবর, বৈঠকে নাকভি আইসিসির কর্মকাণ্ডকে ‘দ্বিমুখী আচরণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন:

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি বনাম বিশ্বকাপ: ২০২৫ সালে ভারত পাকিস্তানে খেলতে না চাওয়ায় তাদের জন্য ‘হাইব্রিড মডেল’ তৈরি করে বিকল্প ভেন্যু দেওয়া হয়েছিল। অথচ বাংলাদেশ যখন নিরাপত্তাহীনতার কারণে শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাইলো, তখন আইসিসি তাদের সরাসরি বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

ভারতের আধিপত্য: পিসিবি প্রধানের দাবি, আইসিসি একটি নির্দিষ্ট দেশের আজ্ঞাবহ হয়ে অন্য দেশগুলোর স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করছে।

পাকিস্তান কি সত্যিই বিশ্বকাপ বর্জন করবে?

সূত্রের দাবি, পাকিস্তান এই পরিস্থিতিতে তিনটি কৌশল বিবেচনা করছে: ১. পূর্ণ বর্জন: প্রতিবাদ স্বরূপ পুরো বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করা। যদিও এর ফলে পিসিবিকে বিশাল আর্থিক জরিমানা ও আইসিসির নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে। ২. ভারত ম্যাচ বয়কট: কেবল ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বর্জন করা। এতে পাকিস্তান ২ পয়েন্ট হারালেও সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ৩. কালো ব্যাজ পরে অংশগ্রহণ: আইসিসির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রতিটি ম্যাচে কালো ব্যাজ ধারণ করা।

এদিকে আইসিসিও বসে নেই। তারা পিসিবিকে সতর্ক করে জানিয়েছে, যদি পাকিস্তান বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তাদের অংশগ্রহণ এবং পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)-এর জন্য ক্রিকেটারদের এনওসি দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

পাকিস্তানের এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বিশ্বকাপের জৌলুস ও বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ। যদি মহসিন নাকভি শেষ পর্যন্ত বয়কটের পথে হাঁটেন, তবে সেটি হবে আইসিসির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক বিপর্যয়।