“আইসিসির নজিরবিহীন প্রতিহিংসা: এবার বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ওপর খড়গ”

0
"আইসিসির নজিরবিহীন প্রতিহিংসা: এবার বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ওপর খড়গ"

ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ ক্রিকেট বিশ্বের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির একগুঁয়েমি আর প্রতিহিংসার বলি হলো এবার বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম। ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার পর, এবার বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বা মিডিয়া পাসও গণহারে বাতিল করেছে আইসিসি। অর্থাৎ, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কোনো সংবাদকর্মী সশরীরে উপস্থিত থেকে সংবাদ সংগ্রহ করতে পারবেন না।

মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের এই নোংরা রাজনীতিতে এখন উত্তাল দেশের ক্রীড়াঙ্গন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি দেশের ক্রিকেট ও গণমাধ্যমের ওপর আইসিসির সরাসরি ‘আঘাত’।

নেপথ্যে ভারত-শ্রীলঙ্কা বিতর্ক

ঘটনার সূত্রপাত মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকে। নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে বাংলাদেশ সরকার ও ক্রিকেটাররা ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে আসছিল। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের দাবি জানানো হলেও আইসিসি তা কানে তোলেনি। উল্টো ভারতকে ভেন্যু হিসেবে অক্ষুণ্ণ রেখে বাংলাদেশকে খেলায় অংশ নিতে চাপ সৃষ্টি করা হয়। বাংলাদেশ নিজের অবস্থানে অনড় থেকে ‘শ্রীলঙ্কা ছাড়া খেলব না’ ঘোষণা দিলে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ‘ফরফিট’ বা টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি।

সাংবাদিকদের ওপর খড়গ

পূর্বতন সূচি অনুযায়ী কলকাতায় বাংলাদেশের তিনটি এবং মুম্বাইয়ে একটি ম্যাচ ছিল। বাংলাদেশ দল থাকুক বা না থাকুক, পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে এবং এদেশের মানুষের ক্রিকেটের প্রতি তীব্র আবেগের কথা মাথায় রেখে অর্ধশতাধিক সাংবাদিক আইসিসির নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অ্যাক্রিডিটেশনের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আজ সন্ধ্যায় আইসিসি থেকে আসা এক মেইলে জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে করা সকল আবেদনই বাতিল (Reject) করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের অভিষেক বিশ্বকাপের আগেও বাংলাদেশি সাংবাদিকরা নিয়মিত বিশ্ব আসর কভার করেছেন। গত ২৫ বছরে এমন নজিরবিহীন ঘটনা আর কখনো ঘটেনি।

ক্ষুব্ধ সাংবাদিক সমাজ

এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) সভাপতি এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেট রিপোর্টার **আরিফুর রহমান বাবু**। তিনি বলেন:

“এটি আমাদের জন্য চরম অপমানের এবং গ্লানির। আমি নিজে সাতটি বিশ্বকাপ কভার করেছি, কিন্তু এমন পরিস্থিতি দেখিনি। দল ভারতে খেলতে না যাওয়ার সাথে সাংবাদিকদের কার্ড বাতিলের কী সম্পর্ক? বিশ্বকাপ তো শ্রীলঙ্কাতেও হচ্ছে, আমাদের সাংবাদিকরা সেখানে গিয়েও কাজ করতে পারতেন। আইসিসির এই মানসিকতা অত্যন্ত নিচু মানের এবং ঘৃণ্য।”

তিনি আরও জানান, কার্ড রিজেক্ট করার মেইলে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে কোনো ফিরতি মেইল বা আপিল করা যাবে না। এটি আইসিসির স্বৈরাচারী আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।

বিএসজেএ সভাপতি জানিয়েছেন, তারা চুপ করে বসে থাকবেন না। বাংলাদেশের অন্য দুই সাংবাদিক সংগঠন বিএসপিএ (BSPA) এবং বিএসজেসি (BSJC)-র সাথে আলোচনা করে দ্রুতই বিসিবি এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইসিসিকে প্রতিবাদলিপি পাঠানো হবে। আইসিসির কাছে এই গণ-বাতিলের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দাবি করা হবে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আইসিসি এখন ভারতকে খুশি করতে গিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট ও মিডিয়াকে একযোগে ‘যাঁতাকলে’ পিষ্ট করার মিশনে নেমেছে। মাঠের বাইরের এই রাজনীতি ক্রিকেটের স্পিরিটকে কতটা কালিমালিপ্ত করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।