পথশিশুদের দুরবস্থা কাটবে কবে

0
পথশিশুদের দুরবস্থা কাটবে কবে
আমরা যেসব শিশুদের দেখি রাস্তার পাশে ঘুমাতে, ছেঁড়া বস্ত্র গাঁয়ে নগরীর অলিতে গলিতে ঘুরে বেড়াতে, কখনো বা টাকার জন্য হাত ধরতে, তারাই হলো পথ শিশু। যারা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত। এদের যত্ন নেওয়ার জন্য নেই কোনো অভিভাবক, নেই কোনো শিক্ষার ব্যবস্থা। খেলাধুলার বয়সে এরা নিমজ্জিত হচ্ছে এক কঠিন জীবন যুদ্ধে। এদের দেখা যায় জোগালির কাজ করতে, ফুল বিক্রি করতে, হোটেলে কাজ করতে, কখনো বা ভিক্ষা করতে। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এরা ছুটে বেড়ায়। মানুষের লাথি, ঘুসি আর খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ খেয়ে এরা বেড়ে ওঠে। পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করাই যেন ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় অপরাধ। চোর, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ীদের মতো দুষ্টু লোকদের সহবতে এরা বেড়ে উঠছে।এসব দুষ্টু লোকেরা শিশুদের ব্যবহার করছে মাদক সরবারহে, ভিক্ষার কাজে, চুরির কাজে।ঢাকায় প্রায়ই অনেক শিশুদের দেখা যায় টাকা চাইতে কিন্তু টাকার বদলে খাবার খাওয়াতে চাইলে তারা খেতে চায় না।তারা শুধু টাকা চায়। খাবার খাওয়াতে চাইলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। তখনই বুঝা যায় যে, তারা কোনো এক দুষ্টু চক্রের নিয়ন্ত্রণে। এখন রাস্তায় বের হলেই দেখা যায় ছোট ছোট বাচ্চারা পকেট মেরে, ফোন টান দিয়ে চুরি করে পালাচ্ছে। এদের কে চুরি শেখালো?কে শেখালো পকেট মারার কৌশল?
 পথশিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে মাদকে।এক জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশের ৬০% পথশিশু মাদকাসক্ত। এখন রাস্তায় বের হলে দেখা যায়, ছোট ছোট বাচ্চাদের ডেন্ডি খেতে‌। তাদের একজনকে ডেন্ডি খাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করা হয়। সে বলে,’এটা খেলে ক্ষুধা লাগে না। শরীরে ব্যথাও করে না।’ আহ,কী জীবন! এভাবে তারা মারাত্মক সব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তারা ধাবিত হচ্ছে ধ্বংসের দিকে।
আমি বুঝতে পারছি না যে, কেন তারা সরকারের এবং বড় বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নজরে পরছে না। এদের সঠিক ভাবে যত্ন নেওয়া হলে,এরা হয়ে উঠবে নগরফুল। যার সুবাসে উজ্জীবিত হবে গোটা নগর। গড়ে উঠবে মানবিক সমাজ। হয়ে উঠবে বাংলাদেশ সত্যিকারের সোনার বাংলাদেশ।
লেখকঃ রাহাত আহমেদ, শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়