ওসমান গনি: ছোট্ট একটা নদী ছিল, উজান ভাটির ঢেউয়ের টানে আজকের দিনে সেই গান ও নেই, নদী ও হারিয়ে গেছে কালের বিবর্তনে। সেই নদী হল কালা ডুমুর নদী। যার অবস্থান কুমিল্লা দাউদকান্দি ও চান্দিনা সীমান্ত জুড়ে।কুমিল্লার কালাডুমুর নদী মূলত গোমতী নদীর একটি শাখানদী, যা দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর এলাকা থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। সে নদী আজ মানব সভ্যতার পাশাপাশি বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ছে। যেই নদীতে এক সময় বর্ষা আসলে মালবোঝাই নৌকা, ইঞ্জিনচালিত বড় বোট এবং কার্গো চলাচল করতো। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে নদীর অস্তিত্ব আজ বিলুপ্তি পথে। কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার এ নদীর উৎসমুখ। গোমতী নদীর গৌরীপুর এলাকা। এটিকে গোমতীর শাখানদীও বলা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে খনন না হওয়ায় নদীটির পেট এখন পলি, আবর্জনা আর কচুরিপানায় ভরাট হয়ে আছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার অন্তত চার উপজেলার হাজারো কৃষকের চাষাবাদ। নদীর গৌরীপুর থেকে ইলিয়টগঞ্জ ব্রিজ পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় খনন করা হলে হাসি ফুটবে কৃষকের মুখে।
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার কালাডুমুর নদের ২৩ কিলোমিটারের মধ্যে গৌরীপুর থেকে ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার কয়েক বছর আগে খনন করা হলেও তা আবার ময়লা, আবর্জনা ও কচুরিপানায় আবার ভরাট হয়ে যায়। ভরাট হওয়া অংশটি আবারও যদি খনন করা হয় নদসংশ্লিষ্ট এলাকার প্রায় ৫০ হাজার বিঘা কৃষি জমিতে উৎপন্ন হবে অন্তত সাড়ে ১২ লাখ মণ ধান। নদী ফিরে পাবে তার প্রাণশক্তি। এবং কৃষকের চোখে-মুখে ফুটে উঠবে আশার আলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। জমিতে মৌসুমি শাকসবজি ও বোরো ধান উৎপাদনে স্থানীয় কৃষকদের সেচের পানির একমাত্র উৎস এ নদ। কিন্তু দীর্ঘ বছর ধরে খনন না করায় এ নদে বালু ও পলি জমে নদের অধিকাংশ স্থান বলতে গেলে শুকিয়ে যায়।
প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কালাডুমুর নদ এখন আবর্জনার ভাগাড় বা স্তূপে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে গৌরীপুর ও ইলিয়টগঞ্জ বাজার এলাকায় ময়লা ফেলে নদের গতিপথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সূত্র মতে, একসময় এ নদীর পানি ব্যবহার করে কৃষকরা আবাদ করতেন ধান, সবজি ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসল। বর্ষা মৌসুমে নৌকা চলাচল করে স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা সচল রাখত। বর্তমানে নদীটি শুকিয়ে খাল ও ডোবায় পরিণত হয়েছে। বর্ষায় সামান্য পানি জমলেও শুষ্ক মৌসুমে নদীটি প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়। এর ফলে সেচকাজে সমস্যার পাশাপাশি স্থানীয় মাছ প্রজননও মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। অপরদিকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের ময়লা আবর্জনা সরাসরি কালাডুমুর নদেই ফেলা হয়। দীর্ঘদিন পুনঃখনন না করায় বালি পলি জমে কালাডুমুর নদটি ভরাট হয়ে গেছে।
এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, পরিবেশ প্রকৃতি রক্ষায় নদ-নদীকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আবর্জনা ফেলে নদ-নদীর চলমান পথ বন্ধ করা দুঃখজনক। ময়লা ফেলা বন্ধ করে নদী কে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবী জানান।

