উলিপুরে মাচায় পটোল চাষ ভালো ফলন ও দামে খুশি কৃষক

0
উলিপুরে মাচায় পটোল চাষ ভালো ফলন ও দামে খুশি কৃষক

উলিপুর প্রতিনিধি: জনপ্রিয় এবং লাভজনক সবজি পটোলের চাষ। এ লাভজনক সবজি মাচায় চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কুড়িগ্রামের উলিপুরের কৃষকেরা। যার চাহিদা বাজারে সারা বছর থাকায় এবং অন্য ফসলের তুলনায় অধিক লাভ হওয়ায় পটল চাষে ঝুঁকছেন এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা। সঠিক পদ্ধতিতে বেডে বা মাচায় পটোল চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া যায় এবং খরচ ও পরিশ্রমও কম লাগে। এটি একটি অর্থকরী ফসল, যা কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করে। তাছাড়া এ বছর পটোলের দাম ভালো পাওয়ায় চাষিরা বেশ খুশি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, পটল চাষের লক্ষ্য মাত্রা প্রায় ৯০ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ৯০ হেক্টরের। উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ২হাজার ৫’শ ৬০ মেট্রিকটন। তারা আরও জানান, কীটনাশক ফাঁদ ব্যবহার করে নিরাপদ সবজি উৎপাদন কৃষকদের মাঝে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। কারণ এতে কীটনাশকের ব্যবহার প্রায় অর্ধেক হ্রাস পায়। পটোলের আবাদ বাড়াতে আধুনিক পদ্ধতিতে পটোল উৎপাদন এবং পোকামাকড় ও রোগ দমনে আইপিএম পদ্ধতিসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের সাতদগাহ ফকিরপাড়া গ্রামের পটোল চাষি আবু সাঈদ ও আবু তাহের বলেন, এবারে ৭০ শতক জমিতে পটোলের চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বীজ ও সার বিনামূল্যে দিলেও পটোল বাজারজাত করা পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। আরও ব্যায় হবে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। মোট ব্যায় হবে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত পটোল বিক্রি করে আয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। আরও ৩ মাস পটোল বিক্রি হবে। তাতে আরও আয় হবে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। মোট আয়ের আশা ৩ লাখ টাকা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পটোল চাষিদের মধ্যে আলী, নজরুল ইসলাম ও রাফিউল ইসলাম আরও অনেকে বলেন, তারা অনেক বছর ধরে পটোলের চাষ করে আসছেন। পটোল চাষ একটি লাভজনক ফসল। এ সবজি চাষে দ্বিগুণ লাভ করা যায়। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও জমি চাষের উপযোগী হওয়ায় পটোল চাষে ব্যাপক সাফল্য দেখছেন তারা। বাজারে পটোলের দাম ও চাহিদা ভালো থাকায় এই সবজির চাষ করেন তারা। সঠিক নিয়ম মেনে ও পরিচর্যা করায় পটোলের ফলনও অনেক ভালো হয়েছে।

উপজেলার একমাত্র পৌর বাজারের আড়তদার লাল মিয়া বলেন, এখন পটোলের দাম ভালো। পটোল পাইকারি প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫’শ টাকা। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে স্থানীয় ভাবে পটোলের আমদানি অল্প থাকায় বাজারে অনেক দাম রয়েছে। এছাড়া উপজেলার বাহিরের বিভিন্ন মোকাম থেকে বেশি দামে পাইকেরীতে ক্রয় করে নিয়ে এসে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন জানান, কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় এ উপজলেয়ায় দিন দিন পটোলের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অল্প খরচে দ্বিগুণ লাভ হওয়ায় পটোল চাষে ঝুঁকেছেন অনেকেই। আমরা পটোল চাষের ব্যাপারে কৃষকদের সকল ধরণের পরামর্শ ও সহযোগিতা করে যাচ্ছি।