এনামুল হকঃ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল সুপরিকল্পিত এবং এর পেছনে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার একটি বিশাল চুক্তি ছিল। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, হত্যাকাণ্ডের অর্থের একটি অংশ লেনদেন হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশের মাধ্যমে।
হত্যাকাণ্ডের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: জিন্নাত: কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া দুই শুটারের একজন। মো. বিল্লাল: হত্যাকাণ্ডের মূল সমন্বয়কারী। আব্দুল কাদির: বিল্লালের চাচা, যিনি আসামিদের আত্মগোপনে সহায়তা করেছেন। মো. রিয়াজ: ঘটনার আগের দিন এলাকা রেকি করা সদস্য।
তবে অপর শুটার এবং জিন্নাতের ভাই রহিম এখনও পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি নম্বর প্লেটবিহীন মোটরসাইকেল ও কিছু নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
গতকাল ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ডিবি সূত্র মতে, বিদেশে অবস্থানরত বিল্লালের এক বড় ভাই এই হত্যাকাণ্ডের মূল চুক্তিটি করেন। ১৫ লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে মামলার সব আইনি দায়ভার গ্রহণের আশ্বাসে বিল্লাল এই মিশনে রাজি হন। এরপর তিন লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেলের বিনিময়ে জিন্নাতকে শুটার হিসেবে ভাড়া করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মূল পরিকল্পনাকারী আড়ালে থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছেন। মধ্যস্থতাকারীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে মূল হোতার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মুসাব্বিরকে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে ডিবি এখনও নিশ্চিত না হলেও তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে তা হলো কারওয়ান বাজারে সাম্প্রতিক চাঁদাবাজি বিরোধী মানববন্ধনে মুসাব্বিরের সক্রিয় অংশগ্রহণ। স্থানীয় কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা। ব্যবসায়িক শত্রুতা বা অন্য কোনো রাজনৈতিক কোন্দল।
অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, “মুসাব্বির হত্যার পেছনে রাজনৈতিক কোনো ইন্ধন আছে কি না তা আমরা খতিয়ে দেখছি। মূল মাস্টারমাইন্ড সরাসরি খুনিদের সঙ্গে যোগাযোগ না করে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এই মিশন পরিচালনা করেছেন।”
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তেজগাঁও এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির। এই ঘটনায় তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে তেজগাঁও থানায় মামলা করেন।
বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে আরও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে যাতে পলাতক শুটার রহিম এবং নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায়।

