ছাগল চুরির পুরোনো কাণ্ড নিয়ে বিবাদ: আসিফ নজরুলকে ‘ভালো মানুষ না’ বলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর চরম কটূক্তি

0
ছাগল চুরির পুরোনো কাণ্ড নিয়ে বিবাদ: আসিফ নজরুলকে ‘ভালো মানুষ না’ বলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর চরম কটূক্তি

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলকে নিয়ে আবারও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ড. আসিফ নজরুলকে ‘খুব ভালো মানুষ না’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এছাড়া, আসিফ নজরুলের সরকারি বাসভবন থেকে ছাগল চুরির ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, তাঁর ‘একটি ছাগল খাওয়া উচিত হয়নি, সামনে সুযোগ পেলে আরও একটা খাওয়া হবে।’

আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে রংপুর অভিমুখে হতে যাওয়া লংমার্চ উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভায় তিনি অংশ নেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরাসরি দাবি করেন যে আসিফ নজরুল খুব ভালো মানুষ নন। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের মেয়াদে আসিফ নজরুল ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি বাসভবনে গরু-ছাগল-মুরগি পালন শুরু করেন এবং সেই খামারের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ তোলেন পাটওয়ারী।

পাটওয়ারী বলেন, “আসিফ নজরুলের ছাগল দুইটাই খাওয়া উচিত ছিল।” ঘটনার ফ্রেমিং অসত্য দাবি করলেও তিনি উল্টো ধিক্কার জানিয়ে বলেন, “যারা খেয়েছে তাদের একটা না খেয়ে দুটিই খাওয়া উচিত ছিল। সামনে সুযোগ পেলে আরেকটাও খাবে।”

২০২৪ সালের ডিসেম্বরের দিকে ঢাকার হেয়ার রোডের সরকারি বাংলো থেকে আসিফ নজরুলের সাড়ে নয় বছরের ছোট মেয়ের প্রিয় পোষা ছাগল উধাও হওয়ার ঘটনাটি রাজনৈতিক ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে একটি ভার্চুয়াল টকশোতে যুক্ত হয়ে আসিফ নজরুল এটিকে তাঁর জীবনের অন্যতম ‘হৃদয়বিদারক ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তাঁর মেয়ের মানসিক কষ্টের সুযোগ নিয়ে যারা এই অপকর্ম ও ‘নির্মম মজা’ করেছে, তারা মানুষের পর্যায়ে পড়ে না—তারা পিশাচ ও অমানুষ।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দেয়াল ডিঙিয়ে দুটি ছাগল সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে একটি ছাগল জবাই করে ভোজ আয়োজন করা হয় এবং অন্য ছাগলটির গলায় সরকারের পদত্যাগের স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে ফেরত পাঠানো হয়।

উক্ত কাণ্ডের পেছনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও ছাত্রনেতা রিফাত রশীদের সরাসরি ভূমিকা ছিল বলে পূর্বেও প্রকাশ পায়, যা পরবর্তীতে উপদেষ্টা পরিষদের ভেতরে ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক অস্বস্তির জন্ম দেয়।

রাজনৈতিক মহলে শিশুসন্তানের পোষা প্রাণী চুরি করে রাজনৈতিক ট্রোল করার ঘটনাটিকে অনেকেই অসংবেদনশীল মনোভাব হিসেবে দেখছেন, যার জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি এখনও অব্যাহত রয়েছে।