বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার ও ব্যাপক নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে রসিকতা করে তিনি লেখেন, “অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০ শতাংশ দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।”
এর আগে আজ দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ জানান, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন খাত থেকে প্রায় ১১,০০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কমিশন প্রাপ্ত নতুন অভিযোগটি আগে থেকেই চলমান একটি অনুসন্ধানের নথির সঙ্গে সংযুক্ত করে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দুবাইয়ে ৪,৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩,০০০ কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২,০০০ কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১, ৫০০ কোটি টাকা পাচার। এছাড়া পর্তুগালে জমি কেনা ও দুবাইয়ের আবাসন খাতে বিনিয়োগের অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে administrator নিয়োগে ৬০ কোটি, গাজীপুর সিটিতে সিইও পদায়নে ৬৫ কোটি, এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলী পদে ৫২ কোটি এবং ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগে প্রতি ক্ষেত্রে ২-১০ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য এসেছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে টেন্ডার থেকে ১০-৩০% কমিশন গ্রহণ এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১,২০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, অভিযোগগুলো বর্তমানে প্রাথমিক অনুসন্ধানের স্তরে রয়েছে এবং এখনো কোনো অভিযোগের আইনগত সত্যতা প্রমাণিত হয়নি। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে আরেকটি অনুসন্ধান শুরু করে সংস্থাটি। সব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আসিফ মাহমুদ গত ৯ সেপ্টেম্বর দাবি করেন, “দুদকের এই তৎপরতা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক হয়রানি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর অংশ”।

