বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের নারী ভোটাররা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষেই গণরায় দেবেন বলে জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর বসুন্ধরায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভারস আইজাবসের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের ওপর আমাদের শতভাগ আস্থা রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, দেশের মা-বোনেরা পর্দার অন্তরালে থেকে দেশের প্রকৃত মঙ্গল চান এবং তারা এবার সুশাসন নিশ্চিত করতে জামায়াতকেই বেছে নেবেন।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, জামায়াত কেবল একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ চায়। জনগণের রায়ে অন্য কোনো দল ক্ষমতায় এলেও জামায়াত তাদের গঠনমূলক সহযোগিতা দেবে, যদি তারা দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন ও বিচার বিভাগের সংস্কারে আন্তরিক থাকে।
নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, “এবারের নির্বাচন জনগণের জন্য শেষ সুযোগ। এই নির্বাচন যদি কোনোভাবে জনগণের হাতছাড়া হয়ে যায় বা ভোটাধিকার হরণ করা হয়, তবে জাতি কবে পুনরায় ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরে পাবে তা অনিশ্চিত।” কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারচুপির আলামত পেলে সাথে সাথে নির্বাচন কমিশন ও জাতিকে অবহিত করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের কিছু গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “কিছু গণমাধ্যম এখনো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে। গণমাধ্যম যদি পরাধীনতার শৃঙ্খল পরে থাকে, তবে তা হবে জনগণের সঙ্গে চরম প্রতারণা।” তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণ সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে এবং সময়মতো এর জবাব দেবে।
বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জামায়াত আমির প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ‘সমতার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব’ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “আমরা কারো ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চাই না, আবার কারো দাসত্বও মেনে নেব না।”
এদিকে, নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে নির্বাচনী আসন সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যেই আসন ভাগাভাগির বিষয়টি জাতির সামনে স্পষ্ট করা হবে।

