আদালত প্রতিবেদকঃ ব্যাংকিং খাতের একক মালিকানাধীন আইনি সীমা লঙ্ঘন করায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-তে বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী ‘এস আলম গ্রুপ’-এর বেনামে থাকা ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে এই বৃহৎ শেয়ারের বিপরীতে তারা কোনো হস্তান্তর, বিক্রয় কিংবা লভ্যাংশ উত্তোলন করতে পারবেন না।
বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ইসলামী ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরোর (আইইআরবি) করা এক রিট আবেদনের শুনাদানি শেষে এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) আদেশের লিখিত অনুলিপি প্রকাশের পর আবেদনকারীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।
রিট আবেদন ও আইনজ্ঞদের দেওয়া তথ্যমতে, ব্যাংকিং কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো একক ব্যক্তি, পরিবার বা একই স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারে না। কিন্তু এস আলম গ্রুপ নীতিমালার তোয়াক্কা না করে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ২৪টি বেনামি প্রাতিষ্ঠানিক অবয়ব তৈরি করে ব্যাংকের মোট শেয়ারের ৮১.৯২ শতাংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ বিষয়টি গোপন রেখে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক সিদ্ধান্তে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে আসছিল গোষ্ঠীটি।
হাইকোর্ট তার আদেশে বলেছে, আইনবহির্ভূতভাবে সংগৃহীত এই বিশাল শেয়ার বেচাকেনা বা মালিকানা হস্তান্তরের সব সুযোগ পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
এর আগে একই বিষয়ের প্রেক্ষিতে এস আলম গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ২৪টি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার পরিচালক এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবিশেষের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
আদালতের অনুমতি ছাড়া উক্ত ২৪ প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে বিষয়ে পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন বিভাগকে আগেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
দেশের অন্যতম শীর্ষ রিটেইল ব্যাংকটির সিংহভাগ মালিকানা ফ্রিজ করার এ সিদ্ধান্তকে আইনজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা আর্থিক খাতে শাসনব্যবস্থা (Corporate Governance) ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আদালতের এমন কঠোর অবস্থানের কারণে সাধারণ গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

