বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ: ৩ জন নিহত, পুলিশের উপর হামলা ও গুজবের ঘটনায় প্রধান হোতা গ্রেফতার

0
বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ: ৩ জন নিহত, পুলিশের উপর হামলা ও গুজবের ঘটনায় প্রধান হোতা গ্রেফতার

মাসুদ রানা রাব্বানী: রাজশাহী নগরীর বেলপুকুর থানা এলাকায় ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী রাজকীয় পরিবহনের একটি বাস গত ২৫ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে পুঠিয়াগামী একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশায় থাকা ৩ জন নিহত হন।

নিহতদের মধ্যে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিপল ই বিভাগের ছাত্র শান্ত ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী রয়েছেন। এ দুর্ঘটনার পর দ্রুত চালকসহ সেখান থেকে বাসটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কিছু লোকের মাধ্যমে ভুয়া গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে পুলিশ বাস চালককে ছেড়ে দিয়েছে, যা পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে। ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তেজিত ছাত্র ও স্থানীয় জনতা বেলপুকুর থানায় অবস্থান করেন এবং সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করতে বাধা দেন।

উত্তেজিত জনতা বেলপুকুর থানার ওসিকে ও এক এসআইকে জিম্মি করে, শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন এবং মোবাইলে তাদের ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ করে। যেখানে এক এসআইকে কান ধরে টানধাক্কা দেয় এমন দৃশ্য ফুটে ওঠে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় বেলপুকুর থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা, এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও পুলিশ সদস্যকে এন্ডলেস অংংধঁষঃ (হেনস্থা) করার অভিযোগে অন্য একটি মামলাও দায়ের করা হয়।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার রাতেই ঘাতক বাসটিকে আটক করা হয়েছিল। সোমবার কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানা এলাকা থেকে ঘাতক বাস চালক সাইফুল ইসলামকে (৪৮)গ্রেফতার করা হয়। তিনি নাটোর সদরের কানাইখালী গ্রামের দক্ষিন পটুয়াপাড়ার দিয়ানতুল্লাহ প্রামাণিকের ছেলে।

গ্রেফতারকৃত চালককে মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একইভাবে, পুলিশ এসল্ট ও সরকারি কাজে বাধা প্রদান মামলার মূল হোতা হাসানুর রহমান তুহিনকে (২৬ সোমবার বিকেলে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি মহানগরীর শাহমখদুম থানার বড় বনগ্রাম চকপাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে। মঙ্গলবার সকালে তাকে ও বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।