‘২০০৮-এর পর প্রথম সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন’: ইইউ মিশনের প্রধান ইর্ভাস ইজাবস

0
‘২০০৮-এর পর প্রথম সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন’: ইইউ মিশনের প্রধান ইর্ভাস ইজাবস

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দীর্ঘ ১৮ বছর পর বাংলাদেশে একটি ‘বিশ্বাসযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। শনিবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মিশনের প্রধান ইর্ভাস ইজাবস এই ঐতিহাসিক মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

ইর্ভাস ইজাবস তাঁর বক্তব্যে বলেন, ২০০৮ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশের ভোটাররা একটি প্রকৃত অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

ব্যাপক প্রার্থীতা: ২ হাজারেরও বেশি প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ভোটারদের সামনে রাজনৈতিক বিকল্প ছিল বিস্তৃত।

বিদেশে ভোট: প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার প্রবাসী ভোটার ডাকযোগে (Postal Ballot) ভোট দিয়েছেন, যা একটি বড় অর্জন।

স্বচ্ছতা: নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করেছে এবং ৬০০-এর বেশি আপিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে অধিকাংশ প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিয়ে জনআস্থা অর্জন করেছে।

নির্বাচন সামগ্রিকভাবে সফল হলেও ইইউ মিশন কয়েকটি বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে: মাত্র ৪ শতাংশ নারী প্রার্থী হওয়াকে ‘বড় হতাশা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পিতৃতন্ত্র, অনলাইন হয়রানি এবং চরিত্রহনন নারীদের রাজনীতিতে আসার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে অন্তত ৫৬টি সংঘাতের ঘটনায় শতাধিক মানুষ হতাহত হয়েছেন, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষুণ্ন করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তত ৩০টি বড় ধরনের ভুয়া তথ্যের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করেছে।

মিশনের পর্যবেক্ষণে নির্বাচন পরিচালনার কারিগরি দিকগুলো প্রশংসা পেলেও কিছু ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়েছে: ৮ লাখ ৫০ হাজার নির্বাচন কর্মীকে দক্ষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র প্রতিবন্ধী বা সীমিত চলাচলক্ষম ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত ছিল না। ভোট গণনা মোটামুটি দক্ষ হলেও অন্তত তিনটি ক্ষেত্রে ফলাফল সংকলনে স্বচ্ছতার অভাব ছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

ইইউ মিশন জানায়, বেসরকারি গণমাধ্যমগুলো ভারসাম্যপূর্ণ খবর প্রচারের চেষ্টা করলেও সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া এখনো অসম্পূর্ণ। তবে নাগরিক সমাজের ৮১টি পর্যবেক্ষণ দল এবং তরুণ কর্মীদের ভোটার শিক্ষা কার্যক্রমকে গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ইইউ।

ইর্ভাস ইজাবস তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান আইনি কাঠামো নির্বাচন পরিচালনার জন্য উপযোগী হলেও আইনি নিশ্চয়তা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে আরও সংস্কার প্রয়োজন। ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে আরও কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে এই মিশন।