শপথ গ্রহণে জামায়াত-বিএনপি টানাপোড়েন: সংবিধান সংস্কার পরিষদ ইস্যুতে বেঁকে বসেছে ১১ দলীয় জোট

0
শপথ গ্রহণে জামায়াত-বিএনপি টানাপোড়েন: সংবিধান সংস্কার পরিষদ ইস্যুতে বেঁকে বসেছে ১১ দলীয় জোট

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট শরিক এনসিপি। ফলে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দ্বিতীয় বৃহত্তম দল জামায়াতের সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শপথ অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও শুরুতেই বিধি বাম হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা করেন, তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপি আপাতত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবে না।

বিএনপির যুক্তি:

সংবিধানের ঘাটতি: সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে সংস্কার পরিষদের শপথের কোনো নির্দিষ্ট ফর্ম বা বিধান নেই।

সংসদীয় প্রক্রিয়া: আগে বিষয়টি সংসদে পাস করে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, তারপরই শপথ নেওয়া সম্ভব।

বিএনপির এই একক সিদ্ধান্তের পর বেঁকে বসেছে জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। বেলা পৌনে ১২টা পর্যন্ত জামায়াতের সদস্যরা শপথ নেননি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার (সেক্রেটারি জেনারেল, জামায়াত): “আমরা আদৌ শপথ নেব কি না, সেই সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠক করছি।”

সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের (নায়েবে আমির): “জটিলতা আছে, জানবেন। বিএনপি সংস্কার পরিষদে শপথ না নিলে আমরা কোনো শপথই নেব না।”

এদিকে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ফেসবুকে এক পোস্টে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন: “আইন অনুযায়ী বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় কোনো শপথই নেবে না ১১ দলীয় জোট।”

সংসদ ভবনের ভেতরে জামায়াত ও শরিক দলের নির্বাচিত সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা এখনো শপথ কক্ষের বাইরে অবস্থান করছেন।

যা হতে পারত, যা হচ্ছে

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘জুলাই সনদ’ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদ সদস্যদের একই সাথে এমপি এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আইনি ও কৌশলগত ব্যাখ্যা দিয়ে বিএনপি একতরফাভাবে সংস্কার পরিষদের শপথ বর্জন করায় নতুন সরকারের যাত্রালগ্নেই মিত্রদের মধ্যে ফাটল দৃশ্যমান হলো।

বিকেল ৪টায় তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সূচি থাকলেও, জোট শরিকদের এই মান-অভিমান সরকার গঠনে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।