‘নারীকে পেছনে রেখে সমৃদ্ধি অসম্ভব’: নারী দিবসে রাষ্ট্রপতির সাহসী উচ্চারণ

0
‘নারীকে পেছনে রেখে সমৃদ্ধি অসম্ভব’: নারী দিবসে রাষ্ট্রপতির সাহসী উচ্চারণ

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাষ্ট্র ও সমাজের মূলধারা থেকে নারীকে বিচ্ছিন্ন রেখে জাতীয় অগ্রগতি অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া, আর সেই লক্ষ্য পূরণে নারীর অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।

রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তেই তারা জীবন দিয়েছেন। তাদের সেই আত্মত্যাগের প্রতিদান দিতে হলে আমাদের একটি বৈষম্যহীন দেশ গড়তে হবে, যেখানে নারী-পুরুষের সমান অধিকার বজায় থাকবে।”

নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে সরকারের নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, ১০ মার্চ ২০২৬ থেকে দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারী ও তাদের পরিবারগুলো স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে। এটিকে তিনি নারীর ক্ষমতায়নে একটি ‘যুগান্তকারী’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।

দেশের অর্থনীতিতে নারীর বিশাল ভূমিকার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমাদের জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ আসে নারীর হাত ধরে। গৃহস্থালি থেকে শুরু করে শিল্প-সাহিত্য ও নির্মাণ—সবখানেই তাদের অবদান অনস্বীকার্য।” তবে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, ঘরে-বাইরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়নের সুফল ভোগ করা সম্ভব হবে না।

“নারী নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

বর্তমান সময়ে নারীদের জন্য উদীয়মান হুমকিগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, অনলাইনে নারীর চরিত্রহনন ও সাইবার অপরাধ রুখতে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। কন্যাশিশুদের জন্য বাল্যবিবাহ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এটি মোকাবিলায় কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার সহস্রাধিক নারী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেন।