মিরপুরে টাইগারদের গর্জন: পাকিস্তান বধ করে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

0
মিরপুরে টাইগারদের গর্জন: পাকিস্তান বধ করে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম দুর্দান্ত সূচনা করেন। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে স্কোরবোর্ডে ওঠে ৫০ রান। দলীয় ১০৫ রানে সাইফ (৩৬) বিদায় নিলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ইনিংস টানেন তামিম। ৯৮ বলে ৭টি ছক্কা ও ৬টি চারের মারে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ১০৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে তিনি যখন আউট হন, বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন মজবুত অবস্থানে। শেষ দিকে লিটন দাসের ৪১ ও তাওহীদ হৃদয়ের অপরাজিত ৪৮ রানের কল্যাণে বাংলাদেশ একটি চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায়। পাকিস্তানের পক্ষে ৩টি উইকেট নেন হারিস রউফ।

রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদের তোপের মুখে পড়ে পাকিস্তান। মাত্র ১৭ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে তারা। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন সালমান আলী আঘা। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন সাদ মাসুদ (৩৮)। সালমান ৯৮ বলে ১০৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে ম্যাচটি পাকিস্তানের নাগালে নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু ৪৭তম ওভারে তাসকিনের এক মরণকামড় সমতুল্য স্লোয়ারে সালমান বিদায় নিলে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।

শেষ দুই ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২৮ রান। ৪৯তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানকে দুই ছক্কা মেরে গ্যালারিতে স্তব্ধতা নামিয়ে আনেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। ওভারের পঞ্চম বলে শাহিনের জোরালো শট সরাসরি মোস্তাফিজের গায়ে লাগলে তিনি গুরুতর আহত হন। মাঠ ছাড়ার শঙ্কা থাকলেও অদম্য সাহসে ওভার শেষ করেন ফিজ এবং শেষ বলে হারিস রউফকে আউট করে সমীকরণ কঠিন করে দেন।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য পাকিস্তানের দরকার ছিল ১৪ রান। পেসারদের কোটা শেষ হওয়ায় অধিনায়ক বল তুলে দেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের হাতে, যিনি আগের ৬ ওভারে খরচ করেছিলেন ৫৪ রান। স্নায়ুচাপের এই পরীক্ষায় রিশাদ দেখালেন ম্যাজিক। নিজের ক্যাচ মিস করলেও দমে না গিয়ে মাত্র ২ রান খরচ করে পাকিস্তানকে আটকে দেন তিনি। ফলে ১১ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।