বরিশাল ব্যুরোঃ সৌদি আরবসহ বিশ্বের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে তার সঙ্গে মিল রেখে বরিশাল নগরীসহ জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার পরিবার আজ ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ এলাহাবাদ জাহাগীরিয়া শাহসুফি দরবার শরীফের অনুসারীরা দীর্ঘদিনের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী এই আগাম ঈদ পালন করছেন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল থেকেই বরিশালের প্রায় অর্ধশত মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবের আমেজে এসব জামাতে শরিক হন কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।
নগরীর সাগরদীর তাজকাঠি মিয়াবাড়ী এলাকার জাহাগীরিয়া শাহ্সুফি মমতাজিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া। নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীবাড়ি শাহসুফী মমতাজিয়া জামে মসজিদে সহস্রাধিক পরিবারের সদস্যরা ঈদের নামাজ আদায় করেন। নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তাজকাঠি হাজী বাড়ীর মসজিদেও ৫০০-র বেশি পরিবার ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়।
বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার খানপুরা, কেদারপুর, মাধবপাশাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে সহস্রাধিক পরিবারে আজ ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। এছাড়া মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ এবং সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন, পতাং ও লাহারহাট গ্রামের প্রায় আড়াই হাজার অনুসারী এই উৎসবে শামিল হয়েছেন।
“আমরা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা যাওয়ার খবরের ভিত্তিতে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাসহ যাবতীয় ধর্মীয় আচার পালন করে আসছি। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।”
আমীর হোসেন, সভাপতি, তাজকাঠি হাজী বাড়ী জামে মসজিদ কমিটি।
বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত চন্দনাইশ দরবারের অনুসারীদের মসজিদগুলোতে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে নামাজ শেষ হয়েছে। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলির মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও কোনো বিঘ্ন ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাতগুলো সম্পন্ন হয়েছে।

