আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ডিমোনা শহরে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত ইসরায়েলের গোপন পারমাণবিক কেন্দ্রের খুব কাছে অন্তত একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। ইসরায়েলের অভেদ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রণ ডোম’ ভেদ করে এই হামলা হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল শনিবার রাতভর এই তাণ্ডব চালানো হয়। শহরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। সবশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। বিশেষ করে ১০ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশু স্প্লিন্টারের আঘাতে মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। শহরজুড়ে সাতবার সতর্কতা সাইরেন বাজার পরও অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
তেহরান জানিয়েছে, তাদের ‘নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে’ সম্প্রতি চালানো হামলার প্রতিশোধ নিতেই ডিমোনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে ইসরায়েল নাতাঞ্জ হামলার দায় সরাসরি স্বীকার না করে একে যুক্তরাষ্ট্রের অপারেশন হিসেবে বর্ণনা করার চেষ্টা করেছে। যদিও এর আগে তেহরানের একটি পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রে হামলার দায় প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিল ইসরায়েল।
ডিমোনার মতো সুরক্ষিত এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ঢুকে পড়ার ঘটনায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে (আইডিএফ) তোলপাড় শুরু হয়েছে। কীভাবে তাদের উচ্চপ্রযুক্তির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে তেল আবিব।
বর্তমানে দক্ষিণ ইসরায়েলে ‘হোম ফ্রন্ট কমান্ড’ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে, নেগেভ, লাখিশ ও মৃত সাগর (ডেড সি) সংলগ্ন এলাকায় আগামী মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত সব স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এসব এলাকায় ৫০ জনের বেশি মানুষের সমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেকোনো আয়োজনের ক্ষেত্রে নিকটবর্তী ‘বোমা শেল্টারে’ দ্রুত পৌঁছানোর সুব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দুই শক্তির এই সরাসরি সংঘাতে ওই অঞ্চলে এখন যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। ইরান হুমকি দিয়েছে যে, ইসরায়েল পাল্টা কোনো পদক্ষেপ নিলে পরবর্তী হামলা হবে আরও ভয়াবহ।

