দুবাইয়ে মার্কিন গোপন আস্তানায় ইরানের বিধ্বংসী হামলা: ‘এ অঞ্চল হবে আমেরিকানদের কবরস্থান’

0
দুবাইয়ে মার্কিন গোপন আস্তানায় ইরানের বিধ্বংসী হামলা: ‘এ অঞ্চল হবে আমেরিকানদের কবরস্থান’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এক নতুন ও ভয়াবহ অধ্যায়ের সূচনা করেছে ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে মোতায়েনকৃত মার্কিন বাহিনীর গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তেহরানের দাবি, ৫০০-র বেশি মার্কিন সেনা যেখানে ‘লুকিয়ে’ ছিল, সেই দুটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে এই নিখুঁত আক্রমণ চালানো হয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি আইআরজিসির খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগরির বরাতে জানিয়েছে, আইআরজিসির শক্তিশালী আক্রমণের মুখে মার্কিন সেনারা তাদের মূল ঘাঁটি ছেড়ে দুবাইয়ের দুটি স্থানে আত্মগোপন করেছিল।

জোলফাগরি বলেন, “আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম যে আমাদের ভয়ে তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পেন্টাগনকে বুঝতে হবে—এই অঞ্চল আমেরিকান সেনাদের জন্য কবরস্থানে পরিণত হতে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তাদের আত্মসমর্পণ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।”

এদিকে, এই হামলার একদিন আগেই ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফজল শেখারচি এক বিস্ময়কর দাবি করেন। তার মতে, পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপিত ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ইরানি বাহিনীর হামলায় ইতোমধ্যে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

জেনারেল শেখারচি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের পর ইরান তার সামরিক নীতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছে। আগের ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অবস্থান ছেড়ে তেহরান এখন ‘আক্রমণাত্মক’ রণকৌশল গ্রহণ করেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান আগ বাড়িয়ে কাউকে আক্রমণ করবে না, তবে আক্রান্ত হলে শত্রুকে সমূলে বিনাশ করবে।

২০২৫ সালের ১২ দিনের সেই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চরমে পৌঁছেছে। দুবাইয়ের মতো একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রে মার্কিন সেনাদের টার্গেট করে হামলা চালানো সরাসরি যুদ্ধের উসকানি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।