বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ জাতীয় সংসদে প্রদত্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে সরকারের নীতি, অতীত সরকারের অবব্যবস্থাপনা এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংকট কাটাতে বিরোধীদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বাকস্বাধীনতার নামে অশালীন চর্চা বন্ধের ওপর জোর দেন তিনি।
দেশের সার্বিক শক্তি ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, বর্তমান ভোগান্তি কোনোভাবেই তাঁর সরকারের সৃষ্টি নয়, বরং এটি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ভুল নীতি ও দুর্নীতির ফল।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুৎ সংকট মেটানোর দোহাই দিয়ে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছিল। কিন্তু এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীকে সুবিধা দিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগার ফতুর ও ঋণগ্রস্ত করা হয়েছে।
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় যেভাবে স্কুল-কলেজ, অফিস ও ব্যাংকের সময়সূচি পরিবর্তন করে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা করবে না।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধীদলের ইতিবাচক সহযোগিতা কামনা করা হলেও তারা বিশাল লংমার্চ কর্মসূচি পালন করেছে। প্রধানমন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, লংমার্চ দিয়ে যদি গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান সম্ভব হতো, তবে সরকারই আগে তার আয়োজন করতো।
বঙ্গোপসাগরে গ্যাস উত্তোলন ও কুপ খনন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বৈদেশিক বা প্রতিবেশী কোনো বিশেষ দেশকে অযাচিত সুবিধা দেওয়ার জন্য সমুদ্রে কাজ থামানো বা চালানো হয়নি। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই দেশের শক্তি খাতকে স্বাবলম্বী করতে কাজ করছে বিএনপি সরকার।
রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এক নতুন বার্তা দেন।
“ফ্যাসিবাদী শাসনামলে কেড়ে নেওয়া বাকস্বাধীনতা আজ অবারিত। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, বাকস্বাধীনতা যেন কোনোভাবেই ‘বাকশালীনতার’ সীমা লঙ্ঘন না করে। যে কথা পারিবারিক পরিবেশে বলা যায় না, তা জনপরিসরেও পরিহার করা উচিত।”
তিনি রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে গালিগালাজের সংস্কৃতি দূর করে দায়িত্বশীল ও শালীন রাজনৈতিক চর্চা গড়ে তোলার জন্য দল-মত নির্বিশেষে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
২৪-এর গণঅভ্যুত্থানসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বিভিন্ন আন্দোলনে শহীদদের ত্যাগ স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুশাসন ও ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠা করাই হবে শহীদদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান। জনগণ এক দলকে সরকারে এবং অপর দলকে বিরোধীদলে বসিয়েছে দেশ গড়ার জন্য। তাই পারস্পরিক কাদা-ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

