রামপালে ডেঙ্গুর বাড়তি সংক্রমণ চলতি বছর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৪৫ জন

0
রামপালে ডেঙ্গুর বাড়তি সংক্রমণ চলতি বছর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৪৫ জন

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:বর্ষা মৌসুমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাগেরহাটের রামপালে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি সময়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা। হাসপাতালের হিসাবে, চলতি বছর এ পর্যন্ত ১৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে বর্তমানে হাসপাতালে কতজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন, তার নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু হাসপাতালে রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা দিয়ে ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকানো সম্ভব নয়। বাড়িঘর ও আশপাশে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র, টব, ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ারসহ বিভিন্ন স্থানে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হলেও সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করার প্রবণতা রয়েছে। জনসচেতনতার ঘাটতিকেই সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট ১৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এদের মধ্যে কতজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বর্তমানে কতজন চিকিৎসাধীন—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য বিভাগের এই পরিসংখ্যানের মধ্যেই উঠে আসছে রামপালের ডেঙ্গু পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র—রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসার পাশাপাশি সংক্রমণের উৎস নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার বলেন, আগের তুলনায় রামপালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু চিকিৎসার মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক পর্যায়ে সম্মিলিতভাবে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মতে, বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র, ফুলের টব, ডাবের খোসা ও পুরোনো টায়ারে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাধারণত মশা নিধনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এডিস মশার লার্ভা জন্মানোর স্থান ধ্বংস না করলে সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

বাড়ির ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন, ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, ফেলে রাখা টায়ার কিংবা ছোট কোনো পাত্রেও পানি জমে থাকলে তা এডিস মশার প্রজননের উপযোগী হয়ে উঠতে পারে। ফলে শুধু প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান নয়, প্রতিটি পরিবারকে নিজেদের বাড়ির চারপাশে নিয়মিত নজরদারি করতে হবে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও পেশিতে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথাসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নিজের মতো করে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

রামপালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, নিয়মিত মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস করা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা, বাড়ি বাড়ি সচেতনতা তৈরি এবং ডেঙ্গু রোগীর তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুকান্ত কুমারের ভাষ্য, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের একার দায়িত্ব নয়; ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা ছাড়া এ সংক্রমণ কমানো কঠিন।

চলতি বছর রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই ১৪৫ জনের ডেঙ্গু চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য পরিস্থিতির গুরুত্ব স্পষ্ট করছে। এখন প্রশ্ন শুধু কতজন রোগী হাসপাতালে আসছেন তা নয়—রামপালের অলিগলি, বাড়ির আঙিনা ও বসতবাড়ির আশপাশে এডিস মশার প্রজননস্থল কতটা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে, সেটিই ডেঙ্গু মোকাবিলার আসল পরীক্ষা।