ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনে নিহত সেনাসদস্য তাসনিমের দাফন সম্পন্ন

0
ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনে নিহত সেনাসদস্য তাসনিমের দাফন সম্পন্ন

মাসুদ রানা রাব্বানী: চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য তাসনিম রিফায়াতের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাদ জোহর রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে জানাজা শেষে তাকে সামরিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তাসনিমের জানাজায় সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও পরিবারের সদস্য, স্বজন, প্রতিবেশী ও বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ অংশ নেন। জানাজার আগে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে সামরিক সম্মান জানানো হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে তাসনিম রিফায়াতের মরদেহ রাজশাহী সেনানিবাসে আনা হয়। পরে সেখান থেকে সড়কপথে মরদেহ তার জন্মস্থান পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শেষবারের মতো তাসনিমকে দেখতে আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা তার বাড়িতে ছুটে আসেন। ২৮ বছর বয়সী এই তরুণ সেনাসদস্যকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার ও গ্রামবাসী।

তাসনিমের বাবা আসাদুল ইসলাম ছেলের মরদেহ দেখে নির্বাক হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তাসনিমের মা মারা যান। মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই একমাত্র কর্মক্ষম ছেলেকে হারিয়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন বাবা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাসনিম রিফায়াত স্ত্রী ও প্রায় আড়াই বছরের একটি কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী এবং বাবাকে হারিয়ে ছোট্ট মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, বুধবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। অনুশীলনের একপর্যায়ে ট্যাংকের ভেতরে একটি গোলা বিস্ফোরিত হলে তাসনিম রিফায়াতসহ দুই সেনাসদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

তাসনিম রিফায়াত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মড কোরের ১৫ স্বতন্ত্র সাজোয়া স্কোয়াড্রনের সদস্য ছিলেন। প্রশিক্ষণ চলাকালে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুতে সহকর্মী, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।#