আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গোয়েন্দা নজরদারিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইরান দাবি করেছে, তাদের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্রগুলো শত্রুর নাগালের সম্পূর্ণ বাইরে রয়েছে। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক দপ্তর ‘খাতাম আল আম্বিয়া’-র পক্ষ থেকে আজ বৃহস্পতিবার এক কড়া বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়।
খাতাম আল আম্বিয়ার মুখপাত্র দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতার প্রধান উৎসগুলো এমন সব গোপন ও দুর্ভেদ্য স্থানে পরিচালিত হয়, যার অবস্থান সম্পর্কে বিশ্বশক্তির কোনো ধারণাই নেই। তিনি দম্ভোক্তি করে বলেন, “শত্রুরা আমাদের উৎপাদনের মূল কেন্দ্রগুলো কোনোদিন খুঁজে পাবে না। ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের কাছে ইরান সম্পর্কে যে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে, তা কেবল অসম্পূর্ণই নয় বরং বিভ্রান্তিকর।”
বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র কিংবা উন্নত ড্রোন স্থাপনা লক্ষ্য করে কোনো হঠকারী হামলার চেষ্টা চালায়, তবে তা হবে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুল। মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, “শত্রুরা যেসব স্থাপনায় হামলার ছক কষছে, সেগুলো আদতে আমাদের মূল কৌশলগত কেন্দ্রই নয়। আমাদের আসল শক্তি তারা কল্পনাও করতে পারবে না।”
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শক্তির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা পশ্চিমাদের জন্য ‘অর্থহীন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব তারা মাঠেই দেবে। এবারের হুঁশিয়ারিতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতের যেকোনো পাল্টা আঘাত হবে আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও সুদূরপ্রসারী, বিস্তৃত ভৌগোলিক পরিসরে,চরম ধ্বংসাত্মক
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম এবং দূরপাল্লার ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরান এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা যেকোনো আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। আগ্রাসনকারী দেশগুলোকে এই স্পর্ধার জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে বলেও শেষ সতর্কবাণী দিয়েছে খাতাম আল আম্বিয়া।

