রাজধানীর সাত কলেজ নিয়ে নতুন দিগন্ত: পাস হলো ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল-২০২৬’

0
রাজধানীর সাত কলেজ নিয়ে নতুন দিগন্ত: পাস হলো ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল-২০২৬’

সংসদ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর নানামুখী আলোচনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল-২০২৬’। এর মাধ্যমে রাজধানীর স্বনামধন্য সাতটি সরকারি কলেজ এখন থেকে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে বিলটি উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বিলটির ওপর জনমত যাচাই ও কণ্ঠভোট গ্রহণ করা হয়। সদস্যদের বিপুল সমর্থনে বিলটি পাস হওয়ার সাথে সাথেই গত ৮ ফেব্রুয়ারি জারি করা ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ-২০২৬’ পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপ নিলো।

নতুন এই আইনের অধীনে রাজধানীর শীর্ষস্থানীয় সাতটি কলেজকে একীভূত করা হয়েছে। কলেজগুলো হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ,কবি নজরুল সরকারি কলেজ

বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সাতটি কলেজের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমাতেই এই বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করা হয়েছে। এর প্রধান লক্ষ্যগুলো হলো আধুনিক ও বিশ্বমানের পাঠ্যক্রম প্রণয়ন এবং উন্নত গবেষণা নিশ্চিত করা। ভর্তি পরীক্ষা, ক্লাস রুটিন এবং পরীক্ষা পদ্ধতির মধ্যে সমন্বয় আনা। স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত ফলাফল প্রকাশ ও শিক্ষা কার্যক্রম নিয়মিত করা। এখন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে এই শিক্ষার্থীরা ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’-এর অধীনে ডিগ্রি ও সনদ লাভ করবেন।

বিলটি পাসের পর শিক্ষামন্ত্রী জানান, এটি কেবল একটি আইনি পরিবর্তন নয়, বরং রাজধানীর লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার একটি সাহসী পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাজধানীর উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি সুশৃঙ্খল ও গতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হবে। আমরা চাই এই কলেজগুলো থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা যেন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সমানে সমান লড়াই করতে পারে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করায় এই সাত কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষক নিয়োগে আরও স্বায়ত্তশাসন আসবে। এর ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর থাকা অতিরিক্ত চাপ যেমন কমবে, তেমনি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরাও তাদের নিজস্ব পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

আজ থেকেই আইনটি কার্যকর হওয়ায় এখন দ্রুততম সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।