আদালত প্রতিবেদকঃ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের কাছে বিপুল অংকের ঘুষ চাওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। ট্রাইব্যুনালের গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি অডিও রেকর্ডের ফরেনসিক ও পারিপার্শ্বিক তথ্য যাচাই করে এই প্রমাণ পেয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম (সংশোধনী: বর্তমানে দায়িত্বরত) ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীকে মামলা থেকে খালাস পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার স্ত্রীর কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করেন সাইমুম রেজা।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে তদন্ত কমিটি। সেখানে সাইমুম রেজা ও ফজলে করিমের স্ত্রীর কণ্ঠস্বর শনাক্ত করা গেছে।
ফাঁস হওয়া অডিওতে দেখা যায়, সাইমুম রেজা টাকা পরিশোধের কিস্তি নির্ধারণ এবং ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করতে বিএনপির একজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য ও একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রীকে দিয়ে তদবির করানোর পরামর্শ দেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, অভিযোগ সামনে আসার পরপরই সাইমুম রেজা তালুকদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেও তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে।
প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, “আমরা অডিওর সত্যতা পেয়েছি। লেনদেনের বিষয়ে আরও গভীরে গিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। খুব দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ করে প্রকৃত সত্য জাতির সামনে আনা হবে।”
শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন সাইমুম রেজা তালুকদার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন অডিও ক্লিপগুলো কৃত্রিম বা সাজানো এবং এটি একটি মহলের অপপ্রচার। তিনি কোনো আর্থিক সুবিধা চাননি বা নেননি। তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের প্রভাবশালী সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীকে গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার করা হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
দ্রুতই ট্রাইব্যুনাল থেকে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

