ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি শেষের পথে: ট্রাম্পের ‘বোমা’ হামলার হুমকি ও গালিবাফের ‘পাল্টা কার্ড’

0
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি শেষের পথে: ট্রাম্পের ‘বোমা’ হামলার হুমকি ও গালিবাফের ‘পাল্টা কার্ড’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ আজ বুধবার (২২ এপ্রিল, ২০২৬) শেষ হতে যাচ্ছে। কোনো টেকসই চুক্তি না হলে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে পুনরায় বিধ্বংসী হামলা শুরু করতে পুরোপুরি প্রস্তুত বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNBC-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির এই সময়টিকে বৃথা যেতে দেয়নি। তার মূল বক্তব্যগুলো ছিল, যুদ্ধবিরতির সময় তারা তাদের সামরিক সরঞ্জাম এবং গোলাবারুদের ভাণ্ডার পুনরায় পূর্ণ করেছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। আমাদের সামরিক বাহিনী আক্রমণের জন্য মুখিয়ে আছে (Raring to go)।” চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমি তা করতে চাই না। আমাদের হাতে আর সময় নেই।”

নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে (Truth Social) দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘একাধিকবার’ লঙ্ঘন করেছে। যদিও তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো ঘটনার উল্লেখ করেননি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন এটি পুনরায় হামলা শুরুর একটি অজুহাত হতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন হুমকির কড়া জবাব দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (X) তিনি জানান,গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান গত দুই সপ্তাহ ধরে ‘নতুন কার্ড’ দেখানোর প্রস্তুতি নিয়েছে যা তারা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রয়োগ করবে।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “হুমকির ছায়াতলে কোনো ধরনের আলোচনা ইরান মেনে নেবে না।” ইরানের সামরিক কমান্ডাররা জানিয়েছেন, মার্কিন হামলা শুরু হলে তারা ‘তাৎক্ষণিক ও চূড়ান্ত’ জবাব দেবেন।

২০২৬ সালের শুরু থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরম রূপ নেয়। জুনে পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার দাবি করে। এরপর ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

ইরান এই প্রণালীতে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে এবং জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের কথা বলছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই পথ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানাচ্ছে। ইরান সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। এই উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Brent Crude) দাম প্রতি ব্যারেল ৯৫ ডলার ছুঁয়েছে।

ইসলামাবাদে আজ দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে শেষ মুহূর্তের আলোচনার কথা থাকলেও তার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। বিশ্ব এখন রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছে—মধ্যপ্রাচ্যে কি নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজবে, নাকি কূটনীতির জয় হবে?

সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি, সিএনবিসি ও ট্রুথ সোশ্যাল।