পটুয়াখালী প্রতিনিধি: সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দিয়ে দেশজুড়ে তুমুল আলোচনায় আসা সেই ‘কালো মানিক’ এবার কোরবানির ঈদে বিক্রি হতে যাচ্ছে। ৪৫ মণ ওজনের বিশাল আকৃতির এই কালো কুচকুচে ষাঁড়টির দাম হাঁকা হয়েছে ২২ লাখ টাকা। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের সোহাগ মৃধার বাড়িতে থাকা এই দানবীয় গরুটি দেখতে এখন প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত মানুষ।
সোহাগ মৃধার পরিবার জানান, ২০১৮ সালে স্থানীয় চৈতা বাজার থেকে মাত্র ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকায় একটি গাভি কিনেছিলেন তিনি। সেই গাভির কোল আলো করে জন্ম নেয় একটি চমৎকার কুচকুচে কালো বাছুর। আদর করে পরিবারটি তার নাম রাখে ‘কালো মানিক’। দীর্ঘ সাত বছর ধরে পরম মমতায়, সন্তানের মতো করে ষাঁড়টিকে বড় করে তোলেন সোহাগ ও তার স্ত্রী সুলতানা বেগম।
পেশায় কৃষক সোহাগ মৃধা নিজেকে বিএনপির একজন সাধারণ ও মাঠপর্যায়ের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। দলের নেত্রীর প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে গত বছরের ৫ জুন তিনি ‘কালো মানিক’কে নিয়ে ঢাকার গুলশানে বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে হাজির হন।
সোহাগ মৃধা সেই স্মৃতি হাতড়ে বলেন “ম্যাডাম (বেগম খালেদা জিয়া) আমাদের উপহারটি অত্যন্ত সাদরে গ্রহণ করেন। আমাদের ঘরের ভেতরে নিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। পরে ম্যাডাম আমার ৬ বছরের ছেলে জিসান মৃধাকে গরুটি ফিরতি উপহার হিসেবে দিয়ে দেন এবং এটি বিক্রি করে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর পরামর্শ দেন।”
গত বছর ঢাকা থেকে ফেরার পর সময় স্বল্পতার কারণে গরুটি বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। তাই এবার ঘরের লক্ষ্মী ঘরে বসেই রাজকীয় দামে বিক্রি করতে চান এই খামারি।
সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে কোনো প্রকার কৃত্রিম ওষুধ ছাড়াই বড় করা হয়েছে কালো মানিককে। এর পেছনে রয়েছে পরিবারের অক্লান্ত পরিশ্রম।
দৈর্ঘ্য ১২ ফুট এবং উচ্চতা ৬ ফুট। বিশালাকৃতির এই ষাঁড়ের বর্তমান ওজন প্রায় ৪৫ মণ। গরুর থাকার ঘর ২৪ ঘণ্টা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়। প্রতিদিন এর পেছনে খড়, কুঁড়ো, ভুসি ও ঘাস বাবদ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা খরচ হয়।
সোহাগের স্ত্রী সুলতানা বেগম বলেন, “আমরা একে পশুর চেয়েও বেশি ভালোবেসেছি। তবে ম্যাডামের দোয়া আর পরামর্শে এবার এটি বিক্রি করে সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে চাই।”
এদিকে কালো মানিককে দেখতে আসা প্রতিবেশীরা জানান, সোহাগের এই সাফল্য দেখে মির্জাগঞ্জের অনেক বেকার যুবক ও সাধারণ গৃহস্থ এখন খামার গড়তে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। এলাকায় একটি বা দুটি উন্নত জাতের গরু লালন-পালন করে ভাগ্য বদলের হাওয়া লেগেছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ‘কালো মানিক’ একটি আশীর্বাদ হয়ে এসেছে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।

