পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার পটুয়াখালীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত মামলাটি সিআর (কগনিশন রেজিস্টার) মামলা হিসেবে গ্রহণের আদেশ দেন। মামলার বাদী দুমকি উপজেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত কোষাধ্যক্ষ ও পীরতলা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. বশির উদ্দিন। মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১১ মে সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা বাদীকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ মোট ২২ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি অফিসার মো. মুকিত, ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের কর্মকর্তা মো. মহিবুল কবির, সহকারী রেজিস্ট্রার রিয়াজ কাওছার শহিদ, সেকশন অফিসার শাহাদত হোসেন নাঈম, কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান, মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ বি এম সাইফুল ইসলাম, ইকোনমিক্স অ্যান্ড সোশিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল বশার খান, এনিম্যাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহাবুদ্দিন আলম, পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. স্বপন কৌঁজারী, ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক ও রাহাত মাহমুদসহ আরও অনেকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলনের মধ্যে এ মামলা দায়ের হওয়ায় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, উপাচার্য ড. কাজী মো. রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে চলমান আন্দোলনের সময় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়ের করা মামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এ মামলা করা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। পাশাপাশি আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন। উল্লেখ্য, গত ১১ মে উপাচার্য অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর বহিরাগতদের হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

