রামিসা হত্যায় ফুঁসছে রাজপথ: কালশী রোড অবরোধ, সহপাঠীদের জড়িয়ে বাবার বুকফাটা আর্তনাদ

0
রামিসা হত্যায় ফুঁসছে রাজপথ: কালশী রোড অবরোধ, সহপাঠীদের জড়িয়ে বাবার বুকফাটা আর্তনাদ

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে (৭) ধর্ষণের পর নৃশংস মস্তকচ্ছেদের ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। ঘাতক সোহেল রানার দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে মিরপুর-পল্লবী এলাকা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ জনতা কালশী রোড অবরোধ করে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর আগে সকালে সহপাঠী ও এলাকাবাসী পল্লবী থানার ভেতরে ঢুকেও তীব্র প্রতিবাদ জানান।

রামিসা ছিল মিরপুরের পপুলার মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। বৃহস্পতিবার সকালে রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা মেয়ের স্মৃতিবিজড়িত শ্রেণিকক্ষে যান। সেখানে মেয়ের বসার খালি বেঞ্চটি দেখে তিনি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি।

কক্ষে থাকা রামিসার সহপাঠীদের জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদতে থাকেন এই অভাগা পিতা। বাবার এমন বুকফাটা আর্তনাদ দেখে ক্লাসের ছোট ছোট শিশুরাও কান্নায় ভেঙে পড়ে। পুরো শ্রেণিকক্ষে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অবুঝ সহপাঠীরা একে অপরকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কারও চোখেই জল থামছিল না। অশ্রুসজল চোখে রামিসার বন্ধুরা বলে, “আমরা রামিসাকে কোনোদিন ভুলব না। আমরা ওর খুনিদের ফাঁসি চাই।”

পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার দিনভর মিরপুর ছিল মিছিল-সমাবেশে উত্তাল। সকালে রামিসার সহপাঠী এবং এলাকাবাসী পল্লবীতে তার বাসার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ও শিশুরা পল্লবী থানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করে এবং থানার ভেতরে ঢুকে পড়ে। তারা দাবি তোলেন, আসামিকে কারাগারে আরাম-আয়েশে না রেখে দ্রুততম সময়ে যেন ফাঁসি দেওয়া হয়।

দিনের বিক্ষোভ গড়ায় সন্ধ্যায়। শত শত মানুষ কালশী রোডে অবস্থান নিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। এতে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং পুরো মিরপুর জুড়ে এক থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়।

রামিসা হত্যার বিচার কেবল রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ নেই, তা এখন সারা দেশের মানুষের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

জামায়াতের বিক্ষোভ: হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের মহিলা বিভাগ। সমাবেশ থেকে বক্তারা রামিসা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ঘাতকদের অবিলম্বে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানোর দাবি জানান।

এছাড়া ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরেও সর্বস্তরের মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন হাতে রাস্তায় নেমে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করছেন।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরবর্তীতে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এই লোমহর্ষক ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠলে পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সন্দেহের তালিকায় রেখে আটক করা হয়। এরপর মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ইতিমধ্যেই আদালতে হাজির করা হলে পাষণ্ড সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় লোমহর্ষক জবানবন্দি দিয়েছে। বর্তমানে সে জেলহাজতে রয়েছে, তবে বিক্ষুব্ধ দেশবাসীর একটাই দাবি—বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই মামলার রায় যেন অবিলম্বে কার্যকর করা হয়।