আহম্মদ কবিরঃ নীল জলরাশি আর সবুজ হাওরের বুকজুড়ে যেখানে নীরবতার কথা শোনার কথা, সেখানে আজ ভেসে আসছে বিকট শব্দের সুর; প্রকৃতির নিস্তব্ধতা ঢেকে যাচ্ছে উচ্চস্বরে ডিজে গানের আড়ালে। টাঙ্গুয়ার হাওর যেন তার নিজস্ব শান্ত সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলছে কিছু বেপরোয়া পর্যটনের ভিড়ে। দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট ও প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা টাঙ্গুয়ার হাওরে সরকার নির্ধারিত ভ্রমণ নীতিমালা উপেক্ষা করে কিছু পর্যটকের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে হাওরের স্বাভাবিক পরিবেশ, ধর্মীয় শান্তি ও স্থানীয় সংস্কৃতি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একমাত্র প্রিমিয়াম হাউজবোট ছাড়া প্রায় প্রত্যেকটি পর্যটকবাহী নৌযানেই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এসব নৌযানে বিকট শব্দে গান বাজিয়ে হাওরজুড়ে চলাচল করতে দেখা যায়, যা পুরো পরিবেশকে শব্দদূষণে বিপর্যস্ত করে তুলছে।এছাড়া কিছু নৌযানে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিতে নাচগান ও অপসংস্কৃতিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও উঠেছে। এতে একদিকে হাওরের নীরব পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—কিছু পর্যটকবাহী নৌযান থেকে ছুড়ে ফেলা প্লাস্টিকের প্লেট, চিপসের প্যাকেটসহ বিভিন্ন বর্জ্য পানিতে ভাসতে দেখা যায়। এসব বর্জ্য হাওরের পানিকে দূষিত করছে এবং জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,এসব বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে হাওরের পরিবেশগত ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি শব্দদূষণ ও বর্জ্য দূষণ একসাথে মিলিয়ে হাওরের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও পর্যটন পরিবেশ মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ছিলানী তাহিরপুর গ্রামের আব্দুল হালিম বলেন, যারা আমাদের সংস্কৃতির ওপর আঘাত আনে এমন পর্যটকদের টাঙ্গুয়ার হাওরে আসা প্রয়োজন মনে করি না। যে পর্যটক পরিবেশের ক্ষতি করে তাদের বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি দেওয়া জরুরি।
টাঙ্গুয়ার হাওর পাড়ের জয়পুর মাদ্রাসার পরিচালক শিহাব বিন জাহাঙ্গীর বলেন, আজ শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের সময় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সাউন্ড সিস্টেমে বিকট শব্দে একের পর এক পর্যটকবাহী নৌযান হাওরে প্রবেশ করতে থাকে, এতে তাদের ধর্মীয় ইবাদত পালনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। তিনি আরও বলেন, এসব নৌযানে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিতে নাচগান করা হচ্ছে, যা স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, টাঙ্গুয়ার হাওর একটি সংবেদনশীল রামসার সাইট হওয়ায় এখানে কঠোরভাবে নীতিমালা বাস্তবায়ন জরুরি। তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

