সুপারিশের যুদ্ধে ‘পরাজয়’: মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের বিদায়ের নেপথ্যে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করলেন মনীষ দেওয়ান

0
সুপারিশের যুদ্ধে ‘পরাজয়’: মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের বিদায়ের নেপথ্যে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করলেন মনীষ দেওয়ান

রাঙামাটি প্রতিনিধি: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগের ঘটনাটি পাহাড়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মন্ত্রীত্বের এই নাটকীয় অবসানের নেপথ্য কারণ নিয়ে যখন নানামুখী গুঞ্জন ডালপালা মেলছিল, ঠিক তখনই এতে নতুন মাত্রা যোগ করলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উপজাতি বিষয়ক সহ-সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) মনীষ দেওয়ান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্ত্রীর পদত্যাগের পেছনের ‘ক্ষমতার দ্বন্দ্বে’র এক বিস্ফোরক খতিয়ান তুলে ধরেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে মনীষ দেওয়ান দাবি করেন, আসন্ন রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের মনোনয়ন নিয়ে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিরোধ ও ‘সুপারিশের যুদ্ধে’ হেরে গিয়েই দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।

মনীষ দেওয়ানের দাবি অনুযায়ী, রাঙামাটি জেলা পরিষদের আসন্ন চেয়ারম্যান পদের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এবং পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়।

তিনি চেয়ারম্যান পদের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাঙামাটিতে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী এবং ‘৩৬ জুলাই বিপ্লবের’ প্রথম সারির যোদ্ধা লে. কর্নেল (অব.) মনীষ দেওয়ানকে মনোনয়ন দেওয়ার জোর সুপারিশ করেছিলেন।

পক্ষান্তরে, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল সমর্থন দিচ্ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি দিপেন তালুকদার দিপুকে।

মনীষ দেওয়ান তার পোস্টে দিপেন তালুকদার দিপুর তীব্র সমালোচনা করে লেখেন, জুলাই বিপ্লবের সময় দিপু প্রায় ছয় মাস রাঙামাটি থেকে পলাতক ছিলেন, যা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও অবগত আছেন। ৫ আগস্টের পর ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলে তার বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং কুখ্যাত আওয়ামী নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে বিতর্কিত হওয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা লেখেন “খুবই দুঃখজনক এই যে, সুপারিশের এই যুদ্ধে আমাদের পূর্ণমন্ত্রী, পাহাড়ি-বাঙালির প্রাণপ্রিয় নেতা, যাকে আমরা সর্বোচ্চ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছি, তিনি হেরে গেছেন! শুধু তাই নয়, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্র আদায় করা হয়েছে। আমি এই অন্যায়ের বিচারের ভার দেশপ্রেমিক পার্বত্যবাসী ও দেশবাসীর ওপর ছেড়ে দিলাম।”

দীপেন দেওয়ানের মতো একজন শীর্ষ নেতার এভাবে আকস্মিক বিদায় এবং দলীয় কোন্দলের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসায় স্তব্ধ পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। পাহাড়ের রাজনীতিতে প্রতিমন্ত্রীর প্রভাব বিস্তার এবং পূর্ণমন্ত্রীকে ‘পদত্যাগে বাধ্য করার’ এই ঘটনা আগামী দিনে রাঙামাটিসহ পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের দলীয় সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।