পাকুন্দিয়ায় বিএনপির কর্মসূচিতে গুলিবর্ষণ: সাবেক ওসিসহ ১৪ পুলিশ ও আ.লীগের ৪৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

0
পাকুন্দিয়ায় বিএনপির কর্মসূচিতে গুলিবর্ষণ: সাবেক ওসিসহ ১৪ পুলিশ ও আ.লীগের ৪৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ২০২২ সালে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বর্বরোচিত গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনায় অবশেষে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তৎকালীন সরকারের প্রভাব ও পুলিশের দমনপীড়নের কারণে দীর্ঘদিন থমকে থাকার পর তৎকালীন পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ার জাহান ও পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাহিদ হাসান সুমনসহ ১৪ জন পুলিশ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ-সহযোগী সংগঠনের ৩২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গত ২৪ মে (২০২৬) পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল হক উজ্জল বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশকে তা নিয়মিত মামলা (এফআইআর) হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবরণী ও বাদী সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাকুন্দিয়ায় বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে চলাকালীন তৎকালীন ওসি সারোয়ার জাহানের সরাসরি নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে।

শুধু পুলিশই নয়, তাদের সঙ্গে যোগ দেয় লাঠিসোটা, ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পুলিশের ছররা গুলি, রাবার বুলেট, টিয়ারশেল এবং আওয়ামী ক্যাডারদের যৌথ হামলায় সেদিন বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে শ্রাবণ নামের এক কর্মীর শরীরে অসংখ্য ছররা গুলি বিদ্ধ হয় এবং জলিল নামের অপর এক কর্মীর একটি চোখ চিরতরে অন্ধ হয়ে যায়।

মামলার বাদী মাজহারুল হক উজ্জল ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন “তৎকালীন ওসি সারোয়ার জাহান আইনের সেবক না হয়ে নিজেকে ‘ছাত্রলীগ নেতা’ হিসেবে জাহির করতে পছন্দ করতেন। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে তিনি কোনো ধরনের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পাকুন্দিয়ায় করতে দিতেন না। তার শাসনামলে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী অমানুষিক নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। আমরা এই জুলুমের ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় আজ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।”

২০২২ সালের ঘটনা হলেও ২০২৬ সালে এসে কেন মামলা করা হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে বাদী জানান, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরবর্তী সময়ে পুলিশের কার্যক্রমে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা নেমে আসে। একই সঙ্গে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় আইনি প্রক্রিয়া গুছিয়ে উঠতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে দেরিতে হলেও অপরাধীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে তারা বদ্ধপরিকর।

পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।