কলাপাড়ায় রাখাইন শিশুদের মাতৃভাষা চর্চায় বিশেষ ক্যাম্পেইন

0
কলাপাড়ায় রাখাইন শিশুদের মাতৃভাষা চর্চায় বিশেষ ক্যাম্পেইন

কলাপাড়া প্রতিনিধি : দেশের দক্ষিন উপকূলের আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়ের নিজস্ব ঐতিহ্যের মাতৃভাষা চর্চায় অবশেষে প্রশাসনিক ভাবে উদ্দোগ নেয়া হয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কাউছার হামিদের নেতৃত্বাধীন উপজেলা প্রশাসন এ মহতী উদ্দোগ গ্রহন করে। ১ জুন ২০২৬ সোমবার বিকালে উপজেলার শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার ও আমখোলা রাখাইন পল্লীতে এ ক্যাম্পেইন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।উপজেলার ৮টি রাখাইন পাড়াতে এ ক্যাম্পেইন চলবে। এসময় রাখাইন শিশুদের নিজ মাতৃভাষার বর্ণমালার বই, কাগজ, পেন্সিল সরবরাহ করা হয়।

রাখাইন শিশুদের মাতৃভাষা চর্চার এ ক্যাম্পেইন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কাউছার হামিদ। এসময় সিপিপির সহকারী পরিচালক মো. আছাদুজ্জামান খান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাখাইন মংম্যাসহ রাখাইন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, দেশের দক্ষিন উপকূলের পর্যটন শহর কুয়াকাটা, কলাপাড়া, খেপুপাড়া রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের নামে আজ সারা বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে। রাখাইন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উপাসনালয়, রাখাইন পল্লী, রাখাইন মার্কেটের পোশাক পরিচ্ছেদ এখন পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। অথচ এ সম্প্রদায়ের শিশুদের অনেকেই তাদের নিজ মাতৃভাষা বলতে পারলেও লিখতে বা পড়তে পারেনা। তাদের জন্য কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন মাতৃভাষা শেখার এ বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে । প্রতিটি রাখাইন পাড়ায় একজন স্বেচ্ছাসেবী এ উদ্যোগে সহযোগিতা করবে। এবং রাখাইন শিশুদের মাতৃভাষা চর্চার পুরো ক্যাম্পেইন রাখাইন সম্প্রদায়ের মাদবররা সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দেখভাল করবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কাউছার হামিদ জানান, প্রত্যেক রাখাইন পল্লীর একজন স্বেচ্ছাসেবী এই কাজে সহযোগী হিসাবে কাজ করবেন। পাড়ার মাদবরগণ এই ক্যাম্পেইনের দেখভাল করবেন। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় অন্তত: ৮০-৯০ রাখাইন শিশু তাদের মাতৃভাষার বর্ণমালা চেনার সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাখাইন মংম্যা জানান, সংক্ষিপ্ত পরিসরে হলেও ইউএনও মহোদয়ের এই উদ্যোগে রাখাইন শিশুদের একটি বড় অংশ মাতৃভাষার বর্ণমালা শেখার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি লিখতে পারার সুযোগ পাবে। এজন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার পাশাপাশি এটি দীর্ঘমেয়াদীভাবে চালু রাখার প্রত্যাশা করেন।