ভোক্তা ও পাইকারি পর্যায়ে রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি: প্রতি ইউনিটে বিদ্যুৎ বিল বাড়ছে দেড় টাকারও বেশি

0
ভোক্তা ও পাইকারি পর্যায়ে রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি: প্রতি ইউনিটে বিদ্যুৎ বিল বাড়ছে দেড় টাকারও বেশি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদকঃ দেশের সাধারণ ভোক্তা ও পাইকারি— উভয় পর্যায়ে একযোগে বড় অঙ্কের বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং শিল্প-কারখানার উৎপাদন খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আজ বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনের কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের এই নতুন মূল্যতালিকা ঘোষণা করা হয়।

বিইআরসি ঘোষিত নতুন শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী, প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা (ইউনিট) বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে গত ২০ ও ২১ মে দুই দিনব্যাপী উন্মুক্ত গণশুনানির আয়োজন করেছিল বিইআরসি। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি চরম আর্থিক লোকসান ও পরিচালন ব্যয়ের অজুহাত দেখিয়ে ইউনিটপ্রতি সর্বনিম্ন ৮৫ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পেশ করে।

নেসকো (NESCO) ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ২ টাকা ৫ পয়সা বৃদ্ধির আবেদন। ডেসকো (DESCO) ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৯৮ পয়সা বৃদ্ধির আবেদন। আরইবি (REB) ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৭৭ পয়সা বৃদ্ধির আবেদন। ডিপিডিসি (DPDC) ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫৪ পয়সা বৃদ্ধির আবেদন। ওজোপাডিকো (WZPDCO) ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধির আবেদন। পিডিবি (PDB) ইউনিটপ্রতি সর্বনিম্ন ৮৫ পয়সা বৃদ্ধির আবেদন।

বিতরণ কোম্পানিগুলোর এই আকাশচুম্বী দাবির বিপরীতে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি (টেকনিক্যাল কমিটি) সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে গড়ে ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানোর একটি মধ্যপন্থী সুপারিশ করেছিল। তবে কমিশন চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর গ্রাহক পর্যায়ে সেই সুপারিশের চেয়েও বেশি অর্থাৎ ১ টাকা ৫২ পয়সা এবং পাইকারিতে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

এর আগে সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারের নির্বাহী আদেশে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল। তবে এবার নির্বাহী আদেশের পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়ায় বিইআরসির গণশুনানির মাধ্যমে এই মূল্যবৃদ্ধি নিশ্চিত করা হলো।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের ওপর সরাসরি বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের চাপ আসবে। একই সাথে পাইকারি পর্যায়ে দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় দেশের উৎপাদনমুখী শিল্প ও সেবামূলক খাতের ব্যয় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক বাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করতে পারে।