
মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ ইতালির ভেনিসে বাংলাদেশি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠার পর চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মনিরুল হাওলাদারের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভের মুখে অভিযুক্তের স্বজনরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালাসীকান্দি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মনিরুলদের পাশাপাশি থাকা চারচালা ও দোচালা টিনশেডের দুটো ঘরই বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। প্রবাসী এই যুবকের অনাকাঙ্ক্ষিত কাণ্ডে এলাকায় তোলপাড় শুরু হওয়ায় তার মা ও বড় ভাইসহ পুরো পরিবারই গা ঢাকা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, দেড় বছর আগে ২৮ লাখ টাকার বিনিময়ে অবৈধ উপায়ে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাড়ি জমান মনিরুল হাওলাদার (মৃত শাজাহান হাওলাদারের ছেলে)। ইতালি যাওয়ার আগে তিনি স্থানীয় রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তৎকালীন স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকা মনিরুল নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের ধুরাইল ইউনিয়ন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রাক্তন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ও তার ছেলে সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আসিবুর রহমান খানের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবেও এলাকায় তার পরিচিতি ছিল।
বিদেশের মাটিতে একজন দেশের জনপ্রিয় তারকার ওপর হামলা চালিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয়রা। তারা ঘটনায় জড়িত মনিরুলের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে নিজ ভাইয়ের এমন অপরাধমূলক কাণ্ডে তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার। তিনি বলেন, “দেড় বছর আগে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বিদেশে গেলেও টাকা উপার্জনের বদলে সে অশুভ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। বিদেশে দেশের সম্মান শেষ করে দেওয়া এমন লোকের কঠোর বিচার হওয়া উচিত। আমরা তার কোনো অপকর্মের দায়িত্ব নেব না।”
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কামাল আজাদ জানান, খবরের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরপরই অভিযুক্তের বাড়িতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো ধরনের ভাঙচুর বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন অবনতি না ঘটে, সে লক্ষ্যে ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সাথে নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।
