বিএসএফের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে হুঙ্কার, বেনাপোল বাজারে রণক্ষেত্র; ৪ নেতাকর্মী রক্তাক্ত
শহিদুল ইসলাম : যশোরের বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক জোরপূর্বক বাংলাদেশি নাগরিকদের পুশব্যাকের (অনুপ্রবেশ) চেষ্টার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে সীমান্ত এলাকা। এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বেনাপোলের সাদীপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তবে সীমান্ত পরিদর্শন শেষে ঢাকা ফেরার পথে বেনাপোল বাজারে তাঁর গাড়িবহরে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির ৪ নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং একটি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে সাদীপুর সীমান্তের জিরো পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এনসিপির শীর্ষ নেতারা। তাঁরা ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা ও পুশব্যাকের শিকার পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক সীমান্ত পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
সেখানে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন “সীমান্তের প্রান্তিক মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখার যেন কেউ নেই। রাষ্ট্র যদি ব্যর্থ হয়, তবে এখন থেকে বাংলার দামাল ছেলেরা সীমান্ত পাহারা দিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাশে গিয়ে দাঁড়াবে। সীমান্ত হত্যা আর মুখ বুজে সহ্য করা হবে না। এই বর্বরতা বন্ধে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ভারতকে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের জবাবদিহি করতে হবে।”
তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, “সীমান্ত হত্যা নিয়ে সরকারের শীর্ষ মহলের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সংগত নয়। পুশব্যাক, হত্যা ও নির্যাতন বন্ধে সরকারকে আরও কঠোর কূটনৈতিক অবস্থান নিতে হবে।”
ফিরে যাওয়ার পথে অতর্কিত ‘হাতুড়ি-পেটা’, কাঠগড়ায় বিএনপি
সাদীপুর সীমান্তের কর্মসূচি শেষ করে ঢাকায় ফেরার পথে বেনাপোল বাজারে পৌঁছামাত্রই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে আকস্মিক হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটর সাইকেলে আসা একদল উগ্র যুবক হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বহরের গাড়িগুলোকে ধাওয়া করে। এ সময় একটি গাড়ির জানালার কাচ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আকস্মিক গুপ্ত হামলায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন “সাদীপুরে পরিদর্শন শেষে গাড়িতে ওঠার সময় প্রথমে কিছু যুবক ডিম ছুড়ে পালিয়ে যায়। এরপর আমাদের বহরটি বেনাপোল বাজারে পৌঁছালে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়। হামলায় আমাদের চারজন সক্রিয় নেতা রক্তাক্ত হয়েছেন।”

হামলায় আহতরা হলেন খান মিফতাহুল মোস্তাফিজ অমিত, (ছাত্রশক্তি নেতা), তাসকিন আহমেদ তাজিম (ছাত্রশক্তি নেতা), রুপম আহসান অর্নব (যুবশক্তি নেতা),(সহ আরও একজন স্থানীয় কর্মী)
হামলার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অক্ষত অবস্থায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিতে সক্ষম হন।
ফেসবুক বার্তায় নাসীরুদ্দীনের হুঁশিয়ারি ও ওসির ভিন্ন দাবি
হামলার পর নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে ভাঙা গাড়ির ছবি পোস্ট করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন “সীমান্তে আমাদের আগমনের খবর পেয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গত রাতে জোরপূর্বক পুশইন করা পরিবারগুলোকে তড়িঘড়ি করে সরিয়ে নিয়েছে। আমরা সফলভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছি। কিন্তু ফেরার পথে কাপুরুষোচিত হামলায় আমাদের ৪ জন আহত হয়েছেন। তবে আল্লাহর রহমতে আমরা নিরাপদে আছি। সীমান্তে মানবিক মর্যাদা ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে আমরা অবিচল থাকব।”
এদিকে, হামলার এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন বেনাপোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন। তিনি জানান, এই ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। তবে ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেনাপোল বন্দর ও বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ মে ঝিনাইদহে পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনেও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটেছিল। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও তাঁর ওপর এই হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় বইছে। এনসিপি নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

