ভূঞাপুর প্রতিনিধি: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা বর্ষণে টাঙ্গাইলের যমুনা নদীতে পানি বাড়ার সাথে সাথে দেখে দিয়েছে ভাঙন। এতে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, বসতভিটাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
পানির প্রবল চাপে রবিবার (১৯ জুলাই) বিকালে ভূঞাপুর-তারাকান্দি-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া স্লুইসগেট এলাকায় নদী রক্ষা গাইড বাধে ধস দেখা দিয়েছে। এতে আপাদত যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
যমুনা নদীর এই ভয়াল আগ্রাসনে সড়কের একাধিক অংশ ভাঙন দেখা দেয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষ। গাইড বাঁধ ধসে যাওয়ায় রবিবার এই আঞ্চলিক মহাসড়কে যানবাহন বন্ধ করে দেয় স্থানীয় নদীপাড়ের মানুষ। এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সড়কের শাখারিয়া এলাকায় কয়েক সপ্তাহ ধরে ভাঙন দেখা দেয়। সে সময় থেকেই গাইড বাঁধ ভাঙনের আশঙ্কা কথা বলে আসছিল স্থানীয়রা। সেখানে গত রবিবার বিকালে পানি প্রবল স্রোতে সড়কের একশ মিটার অংশে ব্লক সরে গিয়ে ধস দেখা দিয়েছে। ফলে ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক ভেঙে ঢাকার সঙ্গে টাঙ্গাইল ভূঞাপুর, গোপালপুর ও জামালপুরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছরই জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করা হয়। স্থায়ীভাবে নদীশাসন না করলে সংকট বারবার ফিরে আসবে। তাই দ্রুত টেকসই নদীতীর বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তারা।
স্থানীয় শিক্ষিকা আঞ্জু আনোয়ারা (ময়না) বলেন, কার্যকর নদী শাসনের ব্যবস্থা না হলে ভবিষ্যতে যমুনার প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হলে সড়ক ও নদীপাড়ের মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। শুষ্ক মৌসুমে যেসব স্থানে স্থায়ী বাঁধের সংস্কার প্রয়োজন, সেখনে সংস্কার করা হবে।
এদিকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরপরই পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে নদীতে জিও ব্যাগ ফেলাসহ ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করে। নদীর স্রোতের আঘাত কমাতে সড়কের পাশের বড় গাছ কেটে সেগুলোর গুঁড়িও নদীতে ফেলা হচ্ছে।
ক্যাপশন: ভূঞাপুর -তারাকান্দি সড়কে ধস। যান চলাচল বন্ধ। ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ।

