সাভার প্রতিনিধিঃ শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় গভীর রাতে চলন্ত বাসে নারী পোশাক শ্রমিককে জঘন্যতম ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মূল অপরাধীদের জালে তুললো পুলিশ। আলোচিত ইতিহাস পরিবহনের চালক আজিজুল শিকদার ওরফে রাজুকে গ্রেপ্তারের পর এবার আত্মগোপনে থাকা হেলপার কাওছার হোসেন সানজিদকেও (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর সোমবার (২০ জুলাই) রাতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গাজীপুরের বাসন থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই রাতে ভুক্তভোগী নারী পোশাক শ্রমিক নিজ জেলা দিনাজপুর থেকে কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাত আনুমানিক শেষভাগে তিনি গাজীপুরের চন্দ্রা চৌরাস্তায় নেমে সাভারমুখী ‘ইতিহাস পরিবহন’-এর একটি বাসে ওঠেন।
বাসটি আশুলিয়ার শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে সাধারণ সব যাত্রী নেমে যান। এরপরই চালক ও হেলপার সানজিদের মানসিকতা বদলে যায়; তারা নতুন কোনো যাত্রী বাসে না তুলে দ্রুত দরজা বন্ধ করে দেন। বিপদের গন্ধ পেয়ে ওই নারী আকুতি-মিনতি জানিয়ে গাড়ি থামাতে বলেন। কিন্তু চালক বাসের গতি আরও বাড়িয়ে দেন।
একপর্যায়ে সানজিদ বাসের স্টিয়ারিং ধরে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে থাকে এবং তাঁর ওপর চরম পাশবিক নির্যাতনের চেষ্টা চালানো হয়। উপায়ান্তর না দেখে নিজের সম্ভ্রম ও জীবন বাঁচাতে চলন্ত বাস থেকেই লাফিয়ে নিচে পড়েন ওই নারী শ্রমিক। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন (পিপিএম) জানান, ঘটনার পর থেকেই আসামি কাওছার হোসেন সানজিদ আত্মগোপনে চলে যায়। সে গাজীপুরের বাসন এলাকার শাহ আলম বাড়ি নামক স্থানে লুকিয়ে থেকে পরিচয় গোপন করে একটি কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের গাড়ির চালক হিসেবে চাকরি নেয়।
তবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হয়নি। গোপন সংবাদ ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যবহৃত ইতিহাস পরিবহনের সেই বাসটি জব্দ করে এবং ঘটনার প্রধান সহযোগী চালক আজিজুল শিকদার ওরফে রাজুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। সানজিদকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান দুই আসামিই এখন পুলিশের খাঁচায়।

