সাবেক মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যান রাসেল ও বশির আহমেদ গ্রেফতার 

0
সাবেক মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যান রাসেল ও বশির আহমেদ গ্রেফতার 

ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধিঃ দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর পাবনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ মকবুল হোসেনের বড় ছেলে ভাঙ্গুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম হাসনাইন রাসেল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক বশির আহমেদ কে গ্রেফতার করেছে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া থানার মামলা নং-০৪, তারিখ ১৩/০৫/২০২৫, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ১৯০৮-এর ৩/৫/৬ ধারায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ঢাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাদের আটক করা হয়।

পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা দুই আসামিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ভাঙ্গুড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার জানান, গ্রেফতারকৃত দুইজন বর্তমানে পাবনা জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে রয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শেষে তাদের আদালতে হাজির করা হবে এবং আদালতের নির্দেশক্রমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাকিউল আজম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “গোলাম হাসনাইন রাসেল ও বশির আহমেদ কে ঢাকা থেকে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তারা বর্তমানে জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে রয়েছেন। ভাঙ্গুড়া থানার মামলা নং-০৪, তারিখ ১৩/০৫/২০২৫, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩/৫/৬ ধারার মামলায় তাদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।”

এদিকে, গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভাঙ্গুড়া সহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গোলাম হাসনাইন রাসেল ভাঙ্গুড়ার রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে যে অভিযোগগুলো উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে আদালতের কোনো চূড়ান্ত রায়ের তথ্য এই প্রতিবেদকের কাছে নেই।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে তাদের নিয়ে নানা ধরনের দাবি ও আলোচনা চললেও সেসব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে গ্রেফতারকৃতদের পরিবার, আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, অষ্টমনিষা বিস্ফোরক মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মামলার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সমীচীন নয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন