শুক্রবারই বঙ্গভবন ছাড়ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ

0
শুক্রবারই বঙ্গভবন ছাড়ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ শারীরিক অসুস্থতা ও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করছেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আগামীকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর নাগাদ তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র প্রেরণ করবেন।

প্রেসিডেন্টের পদে এই আকস্মিক শূন্যতা তৈরি হওয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন।

বঙ্গভবন ও সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, পদত্যাগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি অনুযায়ী, দলের উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা পাওয়ার পরই রাষ্ট্রপতি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্মতি জানান। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর ও নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা বা সংশয় দেখছে না সরকার।

দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বেশ কিছু গুরুতর শারীরিক জটিলতায় ভোগেন, সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে তিনি জটিল হৃদরোগের অস্ত্রোপচার (ওপেন হার্ট সার্জারি) করান।

পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে নিয়মিত পরীক্ষার সময় তার হৃদযন্ত্রে নতুন করে ব্লক ধরা পড়লে সেখানে জরুরিভিত্তিতে সফল এনজিওপ্লাস্টি ও রিং (স্টেন্ট) বসানো হয়।

সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) সাম্প্রতিক সিটি স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষায় তার স্নায়ুবিষয়ক (নিউরোলোজিক্যাল) জটিলতাও ধরা পড়ে, যার দরুন চিকিৎসকরা তাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে ২৪ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর, সাংবিধানিক শূন্যতা দূর করা এবং দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন ও তাদের শপথ পাঠ করিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখেন তিনি।

অসুস্থতাজনিত কারণে তার এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে বঙ্গভবনের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আসনে নতুন কোনো ব্যক্তিত্বকে দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী।