গাজীপুর প্রতিনিধিঃ স্কুলে পরীক্ষা দিতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ১৪ বছরের এক কিশোরীকে সাত দিন পর উদ্ধার করেছে গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে প্রেমের প্রস্তাব ও প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে অপহরণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত ও ওই কিশোরীর গৃহশিক্ষক জাহিদ হাসান রাজকে (২৫) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তার আসামি রাজকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে রোববার দিবাগত রাতে পার্শ্ববর্তী রূপগঞ্জের পূর্বাচল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং রাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার জাহিদ হাসান রাজ কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের দক্ষিণ পানজোড়া গ্রামের জামান রাজের ছেলে।
গত ৩১ আগস্ট সকালে ওই কিশোরী বিদ্যালয়ের পোশাক পরে বাড়ি থেকে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে বের হয়। দীর্ঘ সময় পর বাড়ি না ফেরায় পরিবারের স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
অনুসন্ধানের একপর্যায়ে স্বজনরা জানতে পারেন, গৃহশিক্ষক রাজ ও তার কয়েকজন সহযোগী বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন। ছাত্রীটি পৌঁছামাত্র তাকে জোরপূর্বক ও ফুসলিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন তারা।
ঘটনার পরই কিশোরীর মা কালীগঞ্জ থানায় জাহিদ হাসান রাজসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা রুজু করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অপূর্ব কুমার বাইন জানান, মামলা দায়েরের পর থেকে প্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পূর্বাচল এলাকায় আসামির আত্মগোপনস্থলের সন্ধান মেলে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য ও শারীরিক পরীক্ষার (ডাক্তারি পরীক্ষা) জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ অপহরণের পেছনে আরও কারো পরোক্ষ মদদ রয়েছে কিনা এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

