
বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ ইতালির ঐতিহাসিক ভেনিস শহরে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে যাওয়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা ও শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রবাসের স্থানীয় প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক জানান, ইতালির মিলানে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হবে।
সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক নিশ্চিত করেছেন যে ঘটনার পর অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি কথা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরাপদে আছেন।
মিলানস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাঁধনের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভেনিসে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি বিএনপি নেতা-কর্মীরাও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে জড়িতদের শনাক্তে সহায়তা করছেন।
নাজমুল হক দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়া যেকোনো নাগরিক বা শক্তির ওপর প্রবাসের মাটিতে আক্রমণ হলে স্থানীয় আইন অনুযায়ী তার দাঁতভাঙা আইনি জবাব দেওয়া হবে। আমাদের কাছে সবার আগে বাংলাদেশ।”
এর আগে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি লাইভে এসে ঘটনাটির বর্ণনা দেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
বাঁধন জানান, ভেনিসের একটি পার্কে ভাইয়ের পরিবার ও ছোট শিশুর সামনেই হঠাৎ একদল প্রবাসী বাঙালি তার ওপর চড়াও হয়। হামলাকারীরা তার গায়ে পানি ও কোমল পানীয় ছিটিয়ে দেয়, কানের পাশে সজোরে আঘাত করে এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে। এ সময় সঙ্গে থাকা নিষ্পাপ শিশুটি আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকে।
হামলাকারীরা নিজেদের ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ বলে পরিচয় দিয়ে বাঁধনকে লক্ষ্য করে চড়াও হয় এবং জোরপূর্বক ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনাটির ভিডিও চিত্র ধারণ ও লাইভ প্রচার করা হয়। বাঁধন স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের জুলাই বিপ্লবে অংশ নেওয়ার কারণে তিনি নিজেকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ মনে করেন এবং সেই রাজনৈতিক বিদ্বেষ থেকেই তার ওপর এই হিংসাত্মক আক্রমণ চালানো হয়েছে।
‘রেহানা মরিয়ম নূর’ খ্যাত এই অভিনেত্রী দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গিয়ে এভাবে লাঞ্ছিত হওয়ায় দেশে-বিদেশে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। ইতালি পুলিশ ও বাংলাদেশ কনস্যুলেটের যৌথ উদ্যোগে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রবাসীরা।
